তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল
যুক্তরাজ্যে আইএলআরে বড় পরিবর্তন, পাঁচ বছরের বদলে ১০ বছর
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৭ নভেম্বর :
যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা ইন্ডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নতুন নীতিতে সাধারণ অভিবাসীদের জন্য প্রচলিত পাঁচ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর বসবাসের শর্ত নির্ধারণ করা হচ্ছে। তবে উচ্চ আয়ের পেশাজীবী, চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষকসহ কয়েকটি বিশেষ শ্রেণির মানুষের জন্য তিন ও পাঁচ বছরে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
গত ২ নভেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ পার্লামেন্টে সরকারের নতুন ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ বা অবদানভিত্তিক স্থায়ী বসবাস নীতির বিস্তারিত তুলে ধরেন। সরকারের দাবি, যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অধিকার পেতে হলে এখন থেকে শুধু নির্দিষ্ট সময় বসবাস করলেই হবে না; দেশের অর্থনীতি ও সমাজে অবদান, ভালো আচরণ এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাও প্রমাণ করতে হবে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, বছরে অন্তত ১ লাখ ২৫ হাজার ১৪১ পাউন্ড আয়কারী ব্যক্তি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে তিন বছরেই আইএলআরের আবেদন করতে পারবেন। বছরে ৫০ হাজার ২৭১ পাউন্ড বা তার বেশি আয়কারী ব্যক্তিদের জন্য পাঁচ বছরের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের কর্মীরাও পাঁচ বছরে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন।
অন্যদিকে, সাধারণ যোগ্যতাসম্পন্ন অধিকাংশ অভিবাসীর জন্য অপেক্ষার সময় হবে ১০ বছর। অভিবাসন আইন ভঙ্গ, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবৈধভাবে অবস্থান কিংবা নির্দিষ্ট সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় বেড়ে ২০ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
আইএলআরের জন্য নতুন শর্ত
নতুন নীতিতে আবেদনকারীদের কয়েকটি বাধ্যতামূলক শর্ত পূরণ করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধমুক্ত রেকর্ড, উচ্চতর ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, সরকারের কাছে কোনো বকেয়া ঋণ বা কর না থাকা এবং জাতীয় বিমা (ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স) প্রদানের ধারাবাহিক রেকর্ড।
এ ছাড়া অধিকাংশ আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বছরে অন্তত ১২ হাজার ৫৭১ পাউন্ড আয়ের প্রমাণ এবং নির্দিষ্ট সময়ের আয়সংক্রান্ত শর্ত পূরণের বিষয়টি রাখা হয়েছে। দম্পতির ক্ষেত্রে যৌথ আয় বিবেচনার সুযোগও থাকবে।
কবে থেকে কার্যকর হবে?
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। সরকার নতুন নীতির কাঠামো ঘোষণা করলেও ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সব পরিবর্তন কার্যকর হয়নি। বিস্তারিত ইমিগ্রেশন রুলস প্রকাশের কাজ ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হওয়ার কথা। নতুন নিয়ম ২০২৭ সালে ধাপে ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থাৎ, আপাতত প্রচলিত নিয়মে যোগ্য ব্যক্তিরা আইএলআরের আবেদন করতে পারবেন। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে যাঁদের আবেদন করার কথা, তাঁদের নিজেদের ভিসার মেয়াদ, যোগ্যতা ও আবেদনের সময় নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সরকারের এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে ২০২৫ সালে শুরু হওয়া ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ পরামর্শ প্রক্রিয়া। এতে দুই লাখের বেশি মতামত জমা পড়ে। ব্যাপক সমালোচনা ও উদ্বেগের মধ্যেও সরকার মূল প্রস্তাবের অধিকাংশ বহাল রেখেছে।
নতুন নীতি কার্যকর হলে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত কয়েক লাখ অভিবাসীর স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা, নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় এবং পারিবারিক ভবিষ্যৎ নতুন করে হিসাব করতে হতে পারে।
যাঁরা ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে আছেন, তাঁরাও কি প্রভাবিত হবেন?
নতুন নীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি শুধু ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত অনেক ভিসাধারীও নতুন নিয়মের আওতায় পড়তে পারেন। কারণ, সরকার জানিয়েছে, সাধারণভাবে আবেদন করার সময় কার্যকর নিয়ম অনুযায়ী আইএলআরের যোগ্যতা নির্ধারিত হবে।
তবে কিছু পেশার কর্মীদের জন্য বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। ১২ মে ২০২৫-এর আগে নির্দিষ্ট শর্তে কেয়ার ওয়ার্কার ভিসায় আসা কিছু কর্মী পাঁচ বছরের পথেই আইএলআরের সুযোগ পাবেন। নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের কিছু কর্মীর জন্যও একই ধরনের সুরক্ষা রাখা হয়েছে।
যাঁদের আইএলআর আছে, তাঁদের কী হবে?
সরকারের ঘোষণায় বলা হয়েছে, যাঁরা ইতিমধ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা আইএলআর পেয়েছেন, তাঁদের সেই অধিকার নতুন নীতির কারণে বাতিল করা হবে না। তবে যাঁরা এখনো আবেদন করেননি, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যে আসা যোগ্য ব্যক্তিদের পোস্ট-ব্রেক্সিট ইউরোপীয় সেটেলমেন্ট স্কিমের অধিকারও এই সংস্কারের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।