তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

ব্রেক্সিটের পর ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য সহজ করছে ব্রিটেন

ব্রেক্সিটের পর ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য সহজ করছে ব্রিটেন

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৭ নভেম্বর :

ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাণিজ্য পরিচালনায় যে অতিরিক্ত কাগজপত্র, স্বাস্থ্য সনদ ও সীমান্ত পরীক্ষার জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা কমাতে নতুন চুক্তির খসড়ায় সম্মত হয়েছে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার এই চুক্তির মাধ্যমে খাদ্য, কৃষিপণ্য, মাছ, মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য ও উদ্ভিদ আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান অনেক বাধ্যতামূলক পরীক্ষা ও সনদ বাতিলের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

৩ নভেম্বর চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। আগামী ২০ নভেম্বর যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ সম্মেলনে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে আসার কথা রয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় যুক্তরাজ্য থেকে ইউরোপে খাদ্যপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতিবার প্রায় ২০০ পাউন্ড ব্যয়ের স্বাস্থ্য সনদ এবং উদ্ভিদজাত পণ্যের জন্য ২৫ পাউন্ডের সনদ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা উঠে যাবে। পাশাপাশি পণ্য পরীক্ষা, নমুনা সংগ্রহ ও পরিদর্শনসংক্রান্ত বেশ কিছু খরচও কমবে।

এর ফলে ব্রিটিশ কৃষক, খাদ্য উৎপাদক, মাছ ব্যবসায়ী এবং ক্ষুদ্র রপ্তানিকারকেরা বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারেন। বর্তমানে সীমান্তের আনুষ্ঠানিকতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে অনেক ছোট ব্যবসায়ী ইউরোপের বাজারে পণ্য পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন।

চুক্তি কার্যকর হলে ব্রিটিশ সসেজ, বার্গার, নির্দিষ্ট ধরনের সামুদ্রিক খাবার, বীজ আলু ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশ সহজ হবে। বিশেষ করে স্কটল্যান্ডের মাছ ও সামুদ্রিক খাবার রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ব্রিটিশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন বাণিজ্যব্যবস্থা থেকে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ৫১০ কোটি পাউন্ড অতিরিক্ত সুবিধা আসতে পারে। এতে ব্যবসার খরচ কমার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এই সুবিধা পেতে যুক্তরাজ্যকে খাদ্য নিরাপত্তা, পশুস্বাস্থ্য ও উদ্ভিদ সুরক্ষাসংক্রান্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়মের সঙ্গে নিজেদের আইন ও মানদণ্ড সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। অর্থাৎ ব্রেক্সিটের মাধ্যমে স্বাধীন বাণিজ্যনীতি গ্রহণের সুযোগ পেলেও খাদ্য ও কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় নিয়মের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে চলতে হবে ব্রিটেনকে।

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো উত্তর আয়ারল্যান্ড। নতুন ব্যবস্থায় মূল ভূখণ্ড ব্রিটেন থেকে উত্তর আয়ারল্যান্ডে খাদ্য ও কৃষিপণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রেও বিদ্যমান অনেক পরীক্ষা ও কাগজপত্রের বাধ্যবাধকতা কমবে। এতে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য আরও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ পোষা প্রাণীদের জন্য একাধিকবার ব্যবহারযোগ্য পোষা প্রাণীর পাসপোর্ট পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব সুবিধা কার্যকর হচ্ছে না। সর্বশেষ প্রতিবেদনে বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সময় ২০২৮ সালের প্রথম প্রান্তিক ধরা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক পরিবর্তন সম্পন্ন করতে সময় লাগবে।

খাদ্য বাণিজ্যের পাশাপাশি আগামী ২০ নভেম্বরের সম্মেলনে বিদ্যুৎ বাজারে সহযোগিতা, কার্বন নিঃসরণ বাণিজ্য এবং ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের জন্য সম্ভাব্য যুব চলাচল ও কাজের সুযোগ নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এই চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্তরাজ্যের পুনরায় যোগদান নয়; বরং আলাদা রাষ্ট্রীয় অবস্থান বজায় রেখে বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ।