‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’
ইরান নিয়ে এবার ত্রিশঙ্কু অবস্থায় পড়েছেন ট্রাম্প
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৭ নভেম্বর :
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের পরাজয়ের পর নতুন রাজনৈতিক ও সামরিক সংকটে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখন তাঁর সামনে তিনটি পথ—ইরানে আবারও সামরিক হামলা, আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা অথবা নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রেখে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। কিন্তু প্রতিটি পথেই রয়েছে বড় ঝুঁকি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং ভোটারদের অসন্তোষ রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও প্রকাশ্যে বলেছেন, যুদ্ধের কারণেই তাঁদের দল নির্বাচনে হেরেছে। ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে নির্বাচনে প্রভাব পড়েছে। তবে তাঁর দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যায় না।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে এ নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। ভ্যান্সসহ কয়েকজন উপদেষ্টা ইরানের সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আরেকটি পক্ষ নৌ অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী নতুন অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে একটি খসড়া সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ইরানও কাতারের দেওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ কয়েকটি শর্ত পূরণ না হলে আলোচনায় বসতে তেহরান এখনো অনাগ্রহী।
অন্যদিকে, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়কে নিজেদের রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা মনে করছেন, যুদ্ধের কারণে ট্রাম্প অভ্যন্তরীণভাবে চাপে পড়েছেন। তবে ইরান অতিরিক্ত কঠোর অবস্থান নিলে ট্রাম্প আবারও সামরিক অভিযান শুরু করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষকেরা।
সব মিলিয়ে যুদ্ধ চালানো, সমঝোতা করা কিংবা অর্থনৈতিক অবরোধ বজায় রাখা—কোনো পথই ট্রাম্পের জন্য সহজ নয়। নির্বাচনী পরাজয়ের রাজনৈতিক চাপ এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কৌশলগত হিসাবের মধ্যে পড়ে এখন তাঁকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।