তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

প্রায় দেড় হাজার ইইউ নাগরিকের বসবাসের অধিকার নিয়ে আদালতে হোম অফিস

প্রায় দেড় হাজার ইইউ নাগরিকের বসবাসের অধিকার নিয়ে আদালতে হোম অফিস

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৭ নভেম্বর :

ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যে বসবাসের অনুমতি পাওয়া প্রায় দেড় হাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নাগরিকের অধিকার নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছে অভিবাসীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন ‘দ্য থ্রি মিলিয়ন’। হোম অফিসের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে সংগঠনটি। তাদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে বৈধভাবে দেওয়া বসবাসের অনুমতিকে এখন ভুল সিদ্ধান্ত বলে চিহ্নিত করে নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে সরকার।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের ৭ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোম অফিস ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৭৩ জনকে জানিয়েছে, তাঁদের প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস বা অস্থায়ী স্থায়ী বসবাসের অনুমতি ভুলবশত দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে তাঁরা পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ সেটেলড স্ট্যাটাস পাওয়ার যোগ্য নাও হতে পারেন।

দ্য থ্রি মিলিয়নের দাবি, হোম অফিসের এই নীতি যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্রেক্সিট প্রত্যাহার চুক্তির নাগরিক অধিকারসংক্রান্ত বিধানের পরিপন্থী। কোনো ব্যক্তির বসবাসের অধিকার কেড়ে নেওয়ার আগে তাঁর বক্তব্য শোনা, সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ও আনুপাতিকতা যাচাই এবং আপিলের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সরকার এই সুরক্ষাগুলো এড়িয়ে যাচ্ছে।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন এমন ব্যক্তিরা, যাঁরা ইউরোপীয় নাগরিকত্বের অধিকারী হলেও আবেদন করার সময় প্রয়োজনীয় পাসপোর্ট বা নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণপত্র হাতে পাননি। উদাহরণ হিসেবে ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া ইতালীয় বংশোদ্ভূত কয়েকজনের কথা এসেছে। তাঁদের ইতালীয় নাগরিকত্ব জন্মসূত্রে থাকলেও নাগরিকত্বের আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পরে পাওয়া যায়। সে সময় হোম অফিস তাঁদের প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাস দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে একই নথি পর্যালোচনা করে সরকার জানায়, অনুমতিটি ভুলভাবে দেওয়া হয়েছিল।

এতে যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী মানুষের চাকরি, বাসস্থান ও পারিবারিক জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে লন্ডনভিত্তিক একজন প্রকৌশলী এবং এনএইচএসে কর্মরত একজন স্বাস্থ্যকর্মীও রয়েছেন।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ২৪ সেপ্টেম্বর দেওয়া সরকারের এক লিখিত জবাবে বলা হয়, ৩০ জুন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৭৩ জনকে এ ধরনের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। হোম অফিসের বক্তব্য, ভুলভাবে অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিরা চাইলে নতুন করে আবেদন করতে পারবেন এবং আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে স্বাধীন ট্রাইব্যুনালে আপিল করতে পারবেন। তবে তাঁদের আগের প্রি-সেটেলড স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষ হলে সেটি আর বাড়ানো হবে না।

অন্যদিকে, দ্য থ্রি মিলিয়ন বলছে, এই প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীরা বাস্তবে তাঁদের অধিকার রক্ষার যথেষ্ট সুযোগ পাচ্ছেন না। বিশেষ করে ডিজিটাল অভিবাসন নথিতে স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষ দেখালে চাকরি, বাসা ভাড়া কিংবা যুক্তরাজ্যে যাতায়াতের অধিকার প্রমাণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইতালীয় নাগরিকত্ব জন্মসূত্রে পাওয়ার প্রমাণসংক্রান্ত কিছু ঘটনায় অক্টোবর মাসে হোম অফিস নিজেদের অবস্থান সংশোধন করেছে। ইতালীয় নাগরিকত্ব ‘জুরে সাঙ্গুইনিস’ বা বংশসূত্রে জন্ম থেকেই অর্জিত হওয়ার যথাযথ প্রমাণ গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলো পুনর্বিবেচনার কথা জানিয়েছে বিভাগটি।

দ্য থ্রি মিলিয়ন আদালতের কাছে হোম অফিসের বিতর্কিত নীতিকে বেআইনি ঘোষণা এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। হোম অফিস অবশ্য বিচারাধীন বিষয় হওয়ায় এ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ব্রেক্সিটের পর যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ইউরোপীয় নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষায় নতুন করে এই মামলা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যাঁরা বহু বছর ধরে যুক্তরাজ্যকে নিজেদের স্থায়ী আবাস হিসেবে গড়ে তুলেছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর অনেকাংশে নির্ভর করছে।