তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল

ডিসেম্বরে হাসিনার সঙ্গে দেশে ফিরতে কলকাতায় জড়ো হচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা

কোলকাতা প্রতিনিধি, ৭ নভেম্বর:

ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে ভারতের কলকাতায় জড়ো হচ্ছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। পশ্চিমা বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত দলটির নেতাদের অনেকে ইতিমধ্যে কলকাতায় পৌঁছেছেন। আরও অনেকে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।

কলকাতায় আগে থেকে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নতুন করে আসা নেতারা নিয়মিত বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে সাংগঠনিক কার্যক্রম, দেশে ফেরার প্রস্তুতি এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

কোলকাতায় অবস্থানরত ও এসব বৈঠকে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে রয়েছেন:

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা:

১. শেখ ফজলুল করিম সেলিম
২. জাহাঙ্গীর কবির নানক
৩. এ কে এম মোজাম্মেল হক
৪. মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া
৫. এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম
৬. আসাদুজ্জামান খান কামাল
৭. মির্জা আজম
৮. মহিবুল হাসান চৌধুরী
৯. সুজিত রায় নন্দী
১০. শেখ হেলাল উদ্দিন
১১. আবদুর রহমান
১২. খালিদ মাহমুদ চৌধুরী
১৩. শামীম ওসমান
১৪. লিয়াকত সিকদার

সাবেক সংসদ সদস্য ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতা:

১৫. মৃণাল কান্তি দাস
১৬. অসীম কুমার উকিল
১৭. আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম
১৮. নিজাম উদ্দিন হাজারী

যুবলীগের নেতৃত্ব:

১৯. শেখ ফজলে শামস পরশ
২০. মাইনুল হোসেন খান নিখিল

ছাত্রলীগের নেতৃত্ব:

২১. সাদ্দাম হোসেন
২২. শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান

এ ছাড়া সাবেক মন্ত্রী এস এম রেজাউল করিম লন্ডন ও কলকাতার মধ্যে যাতায়াত করছেন বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন এনামুল হক শামীম, নজরুল ইসলাম বাবু, আমিনুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাত। লন্ডনে রয়েছেন আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, বেলজিয়ামে হাসান মাহমুদ চৌধুরী এবং থাইল্যান্ডে নসরুল হামিদ বিপু। তাঁদেরও কলকাতায় যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানা গেছে।

এদিকে গত ৫ নভেম্বর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার কিংবা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঝুঁকি রয়েছে—এ কথা উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, এমন পরিণতির মুখোমুখি হতেও প্রস্তুত। তবে ফেরার নির্দিষ্ট তারিখ বা যাত্রাপথ এখনো ঘোষণা করেননি।

আওয়ামী লীগ নেতাদের বরাতে জানা গেছে, নভেম্বরের মাঝামাঝি অথবা শেষ দিকে লন্ডনে পশ্চিমা গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের নিয়ে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন শেখ হাসিনা। সেখানে দেশে ফেরার তারিখ ও পরিকল্পনার রূপরেখা ঘোষণা করা হতে পারে। তবে সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতাও রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাঁকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে তাঁর প্রত্যর্পণ চেয়ে আসছে।

সম্প্রতি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, সরকার শেখ হাসিনাকে পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস দেবে না। তবে আওয়ামী লীগ নেতারা দাবি করছেন, এসব নথি ছাড়াও দেশে ফেরার বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। সেই ব্যবস্থা কী, তা অবশ্য প্রকাশ করেননি তাঁরা।

এদিকে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দিন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা নেতাকর্মীদের একযোগে রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। তবে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এমন কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুযোগ ও পরিণতি কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে কলকাতায় আওয়ামী লীগের নেতাদের তৎপরতা বেড়েছে। তবে তাঁর দেশে ফেরা, ভারতের অবস্থান, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরই শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নির্ভর করছে।