তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল
লন্ডনের ৩০ সেতুর ১৬টিই ঝুঁকিপূর্ণ, বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৭ নভেম্বর :
ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনের টেমস নদীর ওপর থাকা ৩০টি সেতুর মধ্যে ১৬টির অবস্থা খারাপ অথবা অত্যন্ত খারাপ। মাত্র ছয়টি সেতুর অবস্থা ভালো বা মোটামুটি ভালো। বাকি আটটি সেতুর সর্বশেষ মূল্যায়ন পাওয়া যায়নি। লন্ডন অ্যাসেম্বলির পরিবহনবিষয়ক কমিটির বৈঠকে প্রকাশিত এ তথ্য নগরীর যোগাযোগ অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় থাকা সেতুগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
১. ওয়েস্টমিনস্টার ব্রিজ (Westminster Bridge)
২. ল্যামবেথ ব্রিজ (Lambeth Bridge)
কাঠামোগত সমস্যা ও যান চলাচলে বিধিনিষেধ থাকা আরও ছয়টি সেতু:
৩. ভক্সহল ব্রিজ
৪. রিচমন্ড ব্রিজ
৫. টাওয়ার ব্রিজ
৬. হ্যামারস্মিথ ব্রিজ
৭. আলবার্ট ব্রিজ
৮. ওয়াটারলু ব্রিজ

পরিস্থিতি ইতিমধ্যে কয়েকটি সেতুতে দৃশ্যমান। হ্যামারস্মিথ ব্রিজ ২০১৯ সাল থেকে মোটরযান চলাচলের জন্য বন্ধ। বর্তমানে শুধু পথচারী ও সাইকেল আরোহীরা এটি ব্যবহার করতে পারেন। সেতুটি সম্পূর্ণ সংস্কারে প্রায় ৩০ কোটি পাউন্ড প্রয়োজন বলে স্থানীয় কাউন্সিল জানিয়েছে। অন্যদিকে, আলবার্ট ব্রিজ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মোটরযান চলাচলের জন্য বন্ধ রয়েছে। কাঠামোগত ক্ষতির কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ভক্সহল, রিচমন্ড ও টাওয়ার ব্রিজে ১৮ টনের বেশি ওজনের যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেতুগুলোর এই দুরবস্থার পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণ ঘাটতি, ভারী যানবাহনের চাপ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। অনেক সেতু নির্মিত হয়েছিল উনিশ শতকে। তখনকার প্রকৌশলীরা বর্তমান সময়ের ভারী গাড়ি, বৈদ্যুতিক বাস এবং তীব্র তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি বিবেচনায় রাখেননি।
লন্ডন অ্যাসেম্বলির বৈঠকে উঠে এসেছে, সেতুগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও বড় ধরনের সংস্কারের জন্য বিপুল অর্থ প্রয়োজন। কিন্তু সেতুগুলোর মালিকানা বিভিন্ন কাউন্সিল, ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিভক্ত থাকায় অর্থায়ন ও দায়িত্ব সমন্বয় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রতিদিন কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে হাজার হাজার মানুষ এসব সেতু ব্যবহার করেন। তাই সেতুর নিরাপত্তা শুধু অবকাঠামোগত সমস্যা নয়, এটি জননিরাপত্তা ও নগরজীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় দুর্ঘটনার অপেক্ষা না করে নিয়মিত প্রকৌশলগত পরীক্ষা, দ্রুত সংস্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। সময়মতো ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত না করলে ভবিষ্যতে আরও সেতুতে যান চলাচল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।