অক্সফোর্ডশায়ারের পিডিংটনে প্রতীকী গণভোটে ২৮৫ জন যুক্তরাজ্য থেকে ‘বিচ্ছিন্নতার’ পক্ষে, বিপক্ষে ২৬
আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন নিয়ে ব্রিটিশ গ্রামে ‘স্বাধীনতা’ ঘোষণা
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২০ সেপ্টেম্বর:
অক্সফোর্ডশায়ারের ছোট্ট গ্রাম। পিডিংটন তার নাম। হঠাৎ করেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছে গ্রামটি। কারণ, কাছের একটি সাবেক সামরিক ঘাঁটিতে ১ হাজার ২৫৬ জন পুরুষ আশ্রয়প্রার্থীকে রাখার সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে গ্রামবাসীরা প্রতীকীভাবে যুক্তরাজ্য থেকে ‘স্বাধীন’ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
গ্রামবাসীদের আয়োজিত অনানুষ্ঠানিক গণভোটে মোট ৩১২টি ভোট পড়ে। এর মধ্যে ২৮৫ জন স্বাধীনতার পক্ষে এবং ২৬ জন বিপক্ষে ভোট দেন। একটি ভোট বাতিল হয়। ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৯২ শতাংশ।

তবে এই গণভোটের কোনো আইনি বা সাংবিধানিক ক্ষমতা নেই। অর্থাৎ পিডিংটন বাস্তবে যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা হয়ে যায়নি। এটি মূলত সরকারের আশ্রয়প্রার্থী আবাসন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে স্থানীয় ক্ষোভ প্রকাশের একটি প্রতীকী উদ্যোগ।
গ্রামবাসীদের আপত্তির কেন্দ্রে রয়েছে কাছের সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সামরিক স্থাপনা। সেখানে বিপুলসংখ্যক আশ্রয়প্রার্থী রাখার পরিকল্পনা করেছে সরকার। স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছে, এত বড় একটি আবাসন প্রকল্প ছোট একটি গ্রামের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। পরিকল্পনাটি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যথেষ্ট আলোচনা ছাড়াই নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগও উঠেছে।
সরকার অবশ্য পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি। মন্ত্রীরা বলেছেন, সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে। ব্যবসাবিষয়ক মন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডস বলেছেন, সাবেক সামরিক ঘাঁটিতে তাদের রাখা শহর বা নগরকেন্দ্রে হোটেল ব্যবহারের তুলনায় বেশি উপযুক্ত।
সংস্কৃতিমন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি পিডিংটনের মানুষের ক্ষোভের কথা স্বীকার করলেও জানিয়েছেন, সরকার পরিকল্পনা পরিবর্তন করছে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকার আশ্রয় আবেদনের দীর্ঘসূত্রতা কমানোর চেষ্টা করছে।
বিষয়টি এখন শুধু একটি গ্রামের আবাসন সমস্যা হিসেবে থাকেনি। আশ্রয়প্রার্থী আবাসন, স্থানীয় জনগণের মতামত, সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদের পদ্ধতি—সব মিলিয়ে এটি ব্রিটেনে চলমান অভিবাসন বিতর্কের একটি আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
এরই মধ্যে গ্রামটির ঘটনাকে ঘিরে বহিরাগত রাজনৈতিক ও আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, তাদের আবাসনবিরোধী ক্ষোভকে উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলো নিজেদের রাজনৈতিক প্রচারে ব্যবহার করতে পারে।
পিডিংটনের ‘স্বাধীনতা’ তাই বাস্তব স্বাধীনতা নয়; এটি সরকারের আশ্রয়প্রার্থী আবাসন নীতির বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষের একটি প্রতীকী রাজনৈতিক প্রতিবাদ। তবে ৩১২ ভোটের মধ্যে ২৮৫ ভোটের ফলাফল দেখিয়ে দিয়েছে, পরিকল্পনাটি নিয়ে গ্রামটিতে বিরোধিতা কতটা প্রবল।