সতর্ক করল জাতিসংঘ
এল নিনোর আঘাতে আগামী বছরে অনাহারের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন ৫ কোটি মানুষ
বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ৬ আগস্ট : বিশ্বজুড়ে নতুন করে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরের শেষ নাগাদ প্রায় ৫ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে (acute hunger) পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ৪৫টি দেশে প্রায় ২২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ গুরুতর খাদ্য অনিরাপত্তার মধ্যে রয়েছেন। নতুন এল নিনোর প্রভাবে এই সংখ্যার সঙ্গে আরও এক-পঞ্চমাংশ মানুষ যুক্ত হতে পারেন।
বিশেষ করে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হলে কৃষি উৎপাদন বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়তে পারে।
এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হওয়া একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়া চক্র, যা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার ধরন বদলে দেয়। তবে এবারের পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। বিজ্ঞানীরা বলছেন, অতিরিক্ত উষ্ণতা ও এল নিনোর যৌথ প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী আবহাওয়া ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে।
ডব্লিউএফপির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও জরুরি সহায়তার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্য সংস্থাটি অন্তত ৮ কোটি ডলার অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে।
তবে খাদ্য সংকটের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে শেষ হবে না বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ কৃষকরা একটি খারাপ মৌসুমের পর উৎপাদন ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে একাধিক মৌসুম সময় নিতে পারেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত কৃষি মৌসুম ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর সবচেয়ে বড় প্রভাব দেখা যেতে পারে ২০২৭-২৮ সালের খাদ্য সংকটের সময়ে।
ডব্লিউএফপির জলবায়ু ও স্থিতিস্থাপকতা বিভাগের পরিচালক রিচার্ড চৌলারটন বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় খাদ্য নিরাপত্তার বড় সংকট দেখা দিতে পারে পরবর্তী ‘lean season’-এ, যখন আগের ফসলের মজুত শেষ হয়ে যাবে।
বিশ্ব খাদ্য বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। উৎপাদন কমে গেলে এবং বড় খাদ্য রপ্তানিকারক দেশগুলো রপ্তানি সীমিত করলে বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে।
এর আগে ২০১৫-১৬ সালের শক্তিশালী এল নিনোর সময় প্রায় ৬ থেকে ১০ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তার মুখে পড়েছিলেন।
এদিকে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যেও চরম তাপপ্রবাহ ও বৃষ্টির ঘাটতির কারণে কৃষকরা ফসল উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। এর ফলে আগামী দিনে খাদ্যের দাম বৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো একা এই সংকটের কারণ নয়; বরং যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মিলেই এটি বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।