ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
সিলেটে ৪ বছর ধরে প্রভাষকের পরিচয়ে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা দেখছেন কেরানি
সিলেট প্রতিনিধি , ৬ আগস্ট:
সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ এলাকার গ্রিনহিল স্টেট কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কলেজটির একজন করণিক (অফিস সহকারী) প্রভাষক পরিচয়ে টানা চার বছর ধরে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে আসছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সিলেট শিক্ষা বোর্ড কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজের অফিস সহকারী জয়ন্ত দত্ত প্রভাষক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন বছর এইচএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে অংশ নেন। চলতি বছর তিনি বাংলা প্রথম পত্রের ৫৫৪ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে শিক্ষা বোর্ডে জমা দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের বিধিমালা অনুযায়ী, এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব পেতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কলেজ পর্যায়ের প্রভাষক হতে হবে এবং ন্যূনতম স্নাতক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। নির্ধারিত এসব শর্ত যথাযথভাবে পূরণ না করেই একজন অফিস সহকারী পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন—এমন অভিযোগ শিক্ষা অঙ্গনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জয়ন্ত দত্ত দাবি করেছেন, তিনি ২০১৯ সালে বাংলায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর কলেজে শিক্ষক সংকটের কারণে বাংলা বিষয়ে পাঠদান শুরু করেন। তাঁর ভাষ্য, সে সময়ের অধ্যক্ষ প্রয়াত প্রশান্ত কুমার সাহার কাছে তাঁর নিয়োগপত্র সংরক্ষিত ছিল।
এদিকে নিয়োগপত্র ও পরীক্ষক মনোনয়ন নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সীতেশ রঞ্জন বর্মণ বলেন, জয়ন্ত দত্তের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে। অনলাইনে পরীক্ষক হিসেবে তাঁর আবেদন তিনি অনুমোদন দেননি; এটি পরিচালনা পর্ষদের সমন্বয়ক দিগ্বিজয় চক্রবর্তী অনুমোদন করেছেন।
অন্যদিকে দিগ্বিজয় চক্রবর্তী দাবি করেন, নিয়োগপত্র ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছেই সংরক্ষিত রয়েছে এবং পরীক্ষক হিসেবে অনলাইন অনুমোদনও অধ্যক্ষই দিয়েছেন।
এ বিষয়ে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের বিদায়ী চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ বোর্ড নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এটি গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি জানান, ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে ইতোমধ্যে গ্রিনহিল স্টেট কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।