ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের বিরোধ নিরসনে সাধারণ সভা, গঠিত হলো নতুন নির্বাচন কমিশন
কমিউনিটি ডেস্ক, ৬ আগস্ট:
গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অচলাবস্থা ও চলমান বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে সাধারণ ট্রাস্টিদের উদ্যোগে এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ট্রাস্টে গঠনতান্ত্রিক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সাধারণ ট্রাস্টিদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
গত ২ আগস্ট ২০২৬ (রবিবার) লন্ডনের চিলড্রেন এডুকেশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ সভা ট্রাস্টের গঠনতন্ত্রের ১০ ধারা অনুযায়ী আহ্বান করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জহির হুসাইন গৌছ। যৌথভাবে সভা পরিচালনা করেন সিদ্দিকুর রহমান ও মোঃ শামিম আহমদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন মাওলানা আশরাফুল ইসলাম।
সভায় সভাপতির শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন মামুনুর রাশিদ খাঁন। তিনি তাঁর বক্তব্যে ট্রাস্টের দীর্ঘদিনের বিরোধ, সাংগঠনিক অচলাবস্থা, ব্যাংক হিসাব স্থগিত থাকার কারণে সৃষ্ট কার্যক্রমের স্থবিরতা এবং বর্তমান পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন।
সভায় উপস্থিত ট্রাস্টিবৃন্দ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা ট্রাস্টের দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান, সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ট্রাস্টকে গঠনতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর সর্বসম্মতিক্রমে গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা শেষে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে নাম প্রস্তাব করা হয়। সর্বসম্মতিক্রমে ট্রাস্টি আকতার হুসেনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি আব্দুল আজিজ ফারুক ও ট্রাস্টি রিয়াজ উদ্দিনকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে মনোনীত করা হয়। এর মাধ্যমে তিন সদস্যবিশিষ্ট নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।
নবগঠিত নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং গঠনতান্ত্রিক বিধান অনুসরণ করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সভায় ৩১ মার্চ ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত ট্রাস্টের সর্বশেষ সর্বজনগ্রহণযোগ্য সাধারণ সভার গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল—
“আলোচ্যসূচি ৮. সংবিধান সংশোধন: (ক) প্যানেল ভোট অথবা স্বাধীনভাবে ভোট প্রয়োগ করে পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট প্রদানের প্রস্তাব (গৃহীত)। (খ) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য সংখ্যা ২৩ জনে উন্নীত করার প্রস্তাব (গৃহীত)।”
সভায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ছিফত আলী আহাদ, মোঃ ফজলুল হক, আব্দুল কাইয়ুম হান্নান, মোঃ মাইজ উদ্দিন আহমেদ, মোঃ দিলওয়ার হোসেন, সায়াদ আহমদ সাদ, এমদাদ হুসেন টিপু, মাশুক আহমদ, সেলিম আহমেদ খান, দেওয়ান নজরুল ইসলাম, রুহুল কুদ্দুস জুনেদ, সেলিম উদ্দিন চাকলাদার, মাহমুদুর রহমান শানুর, সিব্বির আহমদ, আব্দুস সামাদ, বদরুল আলম বাবুল, আব্দুল কাদির, আমিনুল হক জিল্লু, মোঃ ইকবাল হুসেন, ইকবাল আহমদ চৌধুরী, মোঃ ফারুক মিয়া, আলম খান, মাসুদ আহমদ জুয়েল, মোঃ লাভলু, মুহিবুর রহমান, আনওয়ার হুসাইন, তালাত ছিদ্দিক, মিসবাহ মাসুম, জুবায়ের সিদ্দিকী, সোহেল আহমেদ স্বপন, আব্দুল কুদ্দুস লাভলু, ইকবাল আহমেদ, কামাল উদ্দিন ও দেওয়ান আব্দুল বাসিতসহ অনেকে।
সভায় বক্তারা বলেন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠান নয়; এটি সব ট্রাস্টির সম্মিলিত প্রতিষ্ঠান। তাই ট্রাস্টের সব কার্যক্রম গঠনতন্ত্রের বিধান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসনের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত।
উপস্থিত ট্রাস্টিরা আশা প্রকাশ করেন, নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটবে, ট্রাস্টের সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমসহ ট্রাস্টের সব কর্মকাণ্ড সৌহার্দ্যপূর্ণ, স্বচ্ছ ও সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে নতুন উদ্যমে পরিচালিত হবে।
সভা শেষে ট্রাস্টের উত্তরোত্তর সাফল্য, ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনা করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।