ব্রাজিলের কাছে হেরে বিপদে স্কটল্যান্ড, ইতিহাস দক্ষিণ আফ্রিকার
স্পোর্টস ডেস্ক | ভয়েস অব পিপল
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্ব যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, ততই নাটকীয় হয়ে উঠছে নকআউট পর্বের লড়াই। একদিকে ব্রাজিলের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে স্কটল্যান্ড, অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা লিখেছে নতুন ইতিহাস। একই সময়ে ফরাসি ফুটবলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া—তরুণ ফুটবলার কেনজো কিসের মর্মান্তিক মৃত্যু কাঁদাচ্ছে সমর্থকদের।
মিয়ামিতে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-০ গোলের পরাজয় স্কটল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্নকে কঠিন সংকটে ফেলে দিয়েছে। দলের রক্ষণভাগের দুর্বলতা আবারও সামনে এসেছে। নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ না হলেও এখন তাদের ভাগ্য অনেকটাই অন্য দলের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।
অন্যদিকে দিনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা দক্ষিণ আফ্রিকার ঐতিহাসিক জয়। দক্ষিণ কোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে তারা শুধু মূল্যবান তিন পয়েন্টই অর্জন করেনি, বরং বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থানেরও ঘোষণা দিয়েছে। এই জয়ের ফলে নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছে আফ্রিকান প্রতিনিধিদের।
দক্ষিণ কোরিয়ার পরাজয়ের পর দেশটির ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। সাবেক তারকা মিডফিল্ডার পার্ক জি-সুং প্রকাশ্যে দলের প্রস্তুতি ও কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার মতে, পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই কোরিয়ার আক্রমণভাগে সুস্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা দেখা যায়নি। তিনি ২০১৪ সালের ব্যর্থ বিশ্বকাপ অভিযানের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিরও তুলনা করেন।
এদিকে বিশ্বকাপের আরেক আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে তারকাকেন্দ্রিক আলোচনা। ফুটবল বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, দলগত খেলার সৌন্দর্যের চেয়ে ব্যক্তিগত অর্জন ও গোল্ডেন বুট দৌড় নিয়ে অতিরিক্ত আগ্রহ বাড়ছে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা আর্লিং হালান্ডকে ঘিরে আলোচনা কখনও কখনও পুরো দলের অবদানকে আড়াল করে দিচ্ছে বলে মত তাদের।
বিশ্বকাপের উত্তেজনার মধ্যেই ফ্রান্স থেকে এসেছে হৃদয়বিদারক খবর। ফরাসি দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব গ্যাংগাঁর ২১ বছর বয়সী ফুটবলার কেনজো কিস গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের মধ্যে নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। বন্ধুদের সঙ্গে পানিতে নামার পর প্রবল স্রোতে তিনি আটকা পড়েন। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
গ্যাংগাঁ ক্লাব এক বিবৃতিতে জানায়, কিস ছিলেন শান্ত, ভদ্র এবং সতীর্থদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় একজন ফুটবলার। তার অকাল মৃত্যুতে ক্লাব, পরিবার এবং সমর্থকদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ দিকে এসে এখন প্রতিটি ম্যাচই হয়ে উঠেছে বাঁচা-মরার লড়াই। স্কটল্যান্ডের মতো কয়েকটি দল বিদায়ের শঙ্কায় থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দল নতুন স্বপ্ন দেখছে। আর মাঠের বাইরের ঘটনাগুলো মনে করিয়ে দিচ্ছে—ফুটবল শুধু গোল আর জয়-পরাজয়ের গল্প নয়, এটি আনন্দ, বেদনা এবং মানবিকতারও এক বিশাল মঞ্চ।