ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ দুই ভূমিকম্প: হাজারো প্রাণহানির শঙ্কা, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ দুই ভূমিকম্প: হাজারো প্রাণহানির শঙ্কা, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ২৫ জুন:

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ আশপাশের অঞ্চলে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার পরপর দুইটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এতে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে কয়েকশ মানুষের মৃত্যু ও আহতের খবর নিশ্চিত হলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভূমিকম্প দুটি বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানায়, প্রথম কম্পনটির মাত্রা ছিল ৭.২ এবং এর পরপরই ৭.৫ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী কম্পন আঘাত হানে, যা রাজধানীসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তীব্র কাঁপুনি সৃষ্টি করে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল রাজধানী কারাকাসের পশ্চিমাঞ্চল ঘেঁষা এলাকা, যেখানে বহু পুরনো ও আধুনিক ভবন একসঙ্গে ধসে পড়ে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসে, অনেকেই এখনো খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে।

ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জন নিহত এবং ৭০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে অনুসন্ধান অভিযান চলমান থাকায় এই সংখ্যা দ্রুত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। রাজধানীর প্রধান বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহল ইতোমধ্যে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ উদ্ধারকারী দল ও মানবিক সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ধ্বংসপ্রাপ্ত সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উদ্ধার কাজকে আরও কঠিন করে তুলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দুই ভূমিকম্প সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি হতে পারে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের দ্রুত উদ্ধার করা এবং জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা।

স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে আহতদের ভিড় বাড়ছে, অনেক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিকিৎসা সেবাও চাপের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল, এবং পরবর্তী কম্পনের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

দেশজুড়ে শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে, আর উদ্ধারকারীরা সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছেন—যত বেশি সম্ভব প্রাণ বাঁচানোর আশায়।