কানাডায় ডলি বেগম এমপি নির্বাচিত হওয়ায় গ্রেটার সিলেট কাউন্সিলের অভিনন্দন
কমিউনিটি ডেস্ক, ২৬ এপ্রিল॥ কানাডার ফেডারেল উপনির্বাচনে টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম এমপি নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এই অর্জনকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংগঠনের নেতারা।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কনভেনর মোহাম্মদ মকিস মনসুর, কো-কনভেনর মসুদ আহমদ, সদস্য সচিব ড. মুজিবুর রহমান, অর্থ সচিব কাউন্সিলর আসরাফ মিয়া, সাউথইস্ট রিজিওনাল কনভেনর হারুনুর রশিদসহ কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ পৃথক বার্তায় তাকে অভিনন্দন জানান। তারা বলেন, এই বিজয় শুধু সিলেট বা মৌলভীবাজারের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বৈশ্বিক বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্বের এক দৃষ্টান্ত।
অভিনন্দন বার্তায় মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, প্রবাসে থেকেও যোগ্যতা, নেতৃত্ব ও নিষ্ঠার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব—ডলি বেগম তার বাস্তব প্রমাণ। তাঁর এই সাফল্য নতুন প্রজন্মকে রাজনীতি ও নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, ডলি বেগমের বিজয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের নতুন এমপি হিসেবে ডলি বেগমের নির্বাচিত হওয়া কমিউনিটির জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি। তার নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা একটি আরও শক্তিশালী ও ন্যায়ভিত্তিক কানাডা গঠনে ভূমিকা রাখবে।
কমিউনিটি নেতারা আরও বলেন, এই বিজয় প্রমাণ করে যে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখন শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, বরং রাজনৈতিক ও নীতি নির্ধারণী পর্যায়েও নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করছে। বিশেষ করে মুসলিম নারী নেতৃত্বের জন্য এটি একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।
উল্লেখ্য, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাজরাকোনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করা ডলি বেগম শৈশবে পরিবারের সঙ্গে কানাডায় পাড়ি জমান। তিনি University of Toronto থেকে স্নাতক এবং University College London থেকে উন্নয়ন, প্রশাসন ও পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি City of Toronto-এ রিসার্চ অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন।
রাজনীতিতে তার যাত্রা শুরু হয় New Democratic Party (NDP)-এর মাধ্যমে। ২০১৮ সালে অন্টারিও প্রাদেশিক নির্বাচনে স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে জয়ী হয়ে তিনি প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রাদেশিক এমপি হিসেবে ইতিহাস গড়েন এবং পরপর একাধিকবার ওই আসনে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে Liberal Party of Canada-এ যোগ দিয়ে ফেডারেল রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন এবং সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে কানাডার সংসদে প্রবেশ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এগিয়েছেন। ২০২৪ সালে স্বামী ব্যারিস্টার রিজওয়ান রহমানের মৃত্যু তার জীবনে গভীর শোক নিয়ে এলেও তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এই পথচলা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সক্ষমতা ও নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।