তিমির শরীরে লুকানো রহস্য: মানুষের আয়ু কি পৌঁছাবে ২০০ বছরে?
তথ্য কণিকা ডেস্ক, ২৬ এপ্রিল:
সমুদ্রের গভীরে বিচরণ করা বিশালকায় তিমি এখন শুধু জীববৈচিত্র্যের বিস্ময় নয়, বরং মানুষের দীর্ঘায়ুর সম্ভাব্য চাবিকাঠি হিসেবেও উঠে আসছে। সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ এক ধরনের তিমির শরীরে থাকা প্রোটিন মানুষের আয়ু উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণায় মূলত Bowhead whale বা বোহেড তিমিকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এই প্রজাতির তিমি প্রায় ২০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে এবং আশ্চর্যজনকভাবে নানা রোগব্যাধির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধক্ষমতা অত্যন্ত শক্তিশালী। ফলে বার্ধক্য ও দীর্ঘায়ু নিয়ে গবেষণায় এই প্রাণীটি এখন বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

বিজ্ঞান সাময়িকী Nature-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের University of Rochester-এর বিজ্ঞানীরা জানান, এই দীর্ঘায়ুর পেছনে ‘CIRBP’ নামের একটি বিশেষ প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রোটিনটি ডিএনএ-র ক্ষত—বিশেষ করে ‘ডাবল-স্ট্র্যান্ড ব্রেক’—মেরামতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে, যা সাধারণত বিভিন্ন রোগ ও অকাল বার্ধক্যের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
গবেষণায় আরও জানা গেছে, বোহেড তিমির শরীরে এই CIRBP প্রোটিনের পরিমাণ অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর তুলনায় প্রায় ১০০ গুণ বেশি। ল্যাবরেটরিতে যখন এই প্রোটিন মানুষের কোষ ও ফলখেকো মাছির কোষে প্রয়োগ করা হয়, তখন ডিএনএ মেরামতের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এমনকি মাছির ক্ষেত্রে আয়ুও বাড়তে দেখা গেছে।
বিজ্ঞানীরা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক লক্ষ্য করেছেন—শীতল পরিবেশে এই প্রোটিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। যেহেতু বোহেড তিমি সুমেরু অঞ্চলের অত্যন্ত ঠান্ডা পানিতে বসবাস করে, তাই এই পরিবেশ তাদের শরীরে প্রোটিনটির উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে University of Sheffield-এর গবেষকরাও জানিয়েছেন, একটি মাত্র প্রোটিনের মাধ্যমে আয়ু বৃদ্ধির সম্ভাবনা বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এখন বিজ্ঞানীরা খুঁজে দেখছেন, কীভাবে মানুষের শরীরেও এই প্রোটিনের মাত্রা বাড়ানো যায়। জীবনযাত্রায় পরিবর্তন—যেমন ঠান্ডা পানিতে গোসল—নিয়েও প্রাথমিকভাবে ভাবা হচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের আয়ু ২০০ বছরে পৌঁছানো এখনো বাস্তবতার বাইরে। তবে তিমির শরীর থেকে পাওয়া এই সূত্র বার্ধক্যবিজ্ঞানকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন—যা এতদিন ছিল কল্পনার বিষয়—তা হয়তো একদিন বাস্তবের কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে।