লুৎফুর রহমানের সমর্থনে জেরেমি করবিনসহ কমিউনিটি নেতারা
টাওয়ার হ্যামলেটসে মেয়র প্রার্থী লুৎফুর রহমানের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু
কমিউনিটি ডেস্ক:
পূর্ব লন্ডনের Tower Hamlets-এ আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান ও তার নেতৃত্বাধীন এসপায়ার পার্টির নির্বাচনী ক্যাম্পেইন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। স্থানীয় একটি হলে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ অংশ নিয়ে প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন Jeremy Corbyn এমপি এবং Claudia Webbe। তারা উভয়েই বক্তব্যে বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে লুৎফুর রহমান ও এসপায়ার পার্টির বিকল্প নেই এবং তাদের পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনা অত্যন্ত জোরালো। করবিন বিশেষভাবে ৭ মে নির্বাচনের দিনে ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান এবং বলেন, এসপায়ারকে পুনরায় নির্বাচিত করা মানে চলমান হাউজিং উন্নয়নসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান তার বক্তব্যে বিগত মেয়াদে প্রশাসনের অর্জন তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রায় ১২০টি প্রতিশ্রুতির মধ্যে প্রায় ৯৩ শতাংশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে, আর অবশিষ্টগুলো সম্পন্ন হলে তা ৯৭ শতাংশে উন্নীত হবে। তিনি বলেন, “উন্নয়ন ও পরিবর্তনের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমাদের ভোট দিন। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—যতদিন সুস্থভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবো, ততদিন মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকবো।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার নেতৃত্বে গৃহীত বহু উদ্যোগ শুধু টাওয়ার হ্যামলেটসেই নয়, বরং সমগ্র যুক্তরাজ্যের জন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। হাউজিং, শিক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, লেইসার সুবিধা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
অনুষ্ঠানে এসপায়ার পার্টির চেয়ারম্যান কে এম আবু তাহির চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে লুৎফুর রহমানের মেয়র প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। এ সময় পার্টির সেক্রেটারি সোনালি মিয়া ও ট্রেজারার তারেক আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের যৌথ সঞ্চালনায় ছিলেন কাউন্সিলের ফাইন্যান্স বিষয়ক ক্যাবিনেট মেম্বার সাইয়েদ আহমেদ এবং কাউন্সিলর প্রার্থী মেঘনা উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর মাইয়ুম তালুকদার। এছাড়া বক্তব্য রাখেন সোমালি কমিউনিটির নেত্রী ও শিক্ষক নাইমা ওমর, শিক্ষাবিদ ড. হাসানাত মোহাম্মদ হুসাইন এমবিই, বিবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট রফিক হায়দার, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা ওয়েম্যান বেনেট, সমাজকর্মী ও লাভ সুইম ডিরেক্টর লেসলি গ্রিন, জিএসসি’র সাবেক প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার আতাউর রহমান, প্রফেসর মাওলানা আবদুল কাদের সালেহ, ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের চেয়ারম্যান খসরুজ্জামান খসরু, কমিউনিটি নেতা মাহফুজ নাহিদ এবং রোমা কমিউনিটির নেত্রী ড্যানিয়েলাসহ আরও অনেকে।
বক্তারা তাদের আলোচনায় লুৎফুর রহমানের উল্লেখযোগ্য ৪০টি অর্জনের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে স্কুল মিল (যাতে প্রায় ৩৮ হাজার শিশু উপকৃত), বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য £১,৫০০ অনুদান এবং এ-লেভেলে বছরে £৬০০ শিক্ষা ভাতা (মোট ৫,২০০ শিক্ষার্থী উপকৃত), প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ফ্রি স্কুল ইউনিফর্ম, বছরে £১৩.৭ মিলিয়ন বিনিয়োগে ২০টি ওয়ার্ডে ইয়ুথ সেন্টারসহ নারী ও কিশোরীদের জন্য বিশেষ কেন্দ্র স্থাপন।
এছাড়া ফ্রি হোম কেয়ারের জন্য বছরে £৪.৯ মিলিয়ন বরাদ্দ, ফ্রি সুইমিং সুবিধায় ২০ হাজার মানুষের অন্তর্ভুক্তি এবং £১০৭ মিলিয়ন লেইসার খাতে বিনিয়োগের কথাও উল্লেখ করা হয়। কাউন্সিল মালিকানাধীন ঘরবাড়ির উন্নয়নে £৬০৯ মিলিয়ন বাজেট পরিকল্পনা গ্রহণ এবং ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে ৬,৪৪১টি নতুন ঘর সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণকেও বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরা হয়।
বক্তারা বলেন, এসব উদ্যোগের অনেকগুলো জাতীয় পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে টাওয়ার হ্যামলেটস যুক্তরাজ্যের প্রথম ও একমাত্র বারা হিসেবে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে।
সমগ্র অনুষ্ঠানজুড়ে উন্নয়ন ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং কমিউনিটি সেবাকে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকারই ছিল প্রধান বার্তা।