ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট: নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি

ঢাকা প্রতিনিধি, ১১ ফেব্রুয়ারি:  শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। তবে ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা এখনও রয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন আসনে ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট ছিনতাই, সংঘর্ষ, সহিংসতা ও ভোটপ্রদানে বাধার সম্ভাবনা আছে। বিশেষ করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অধ্যুষিত এলাকায় সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে বিশেষ নজরদারি চলছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সব ধরনের ঝুঁকি বিবেচনা করে পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, আনসার, কোস্টগার্ড এবং র‍্যাব সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। সব ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে; যেখানে বিদ্যুৎ নেই, সেখানে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া ২৫ হাজারের বেশি বডি ওর্ন ক্যামেরা মোতায়েন করা হবে।

নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকবে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে সেনাবাহিনী এক লাখ, নৌবাহিনী ৫ হাজার, বিমানবাহিনী ৩ হাজার ৭৩০, পুলিশ এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪, বিজিবি ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্টগার্ড ৩ হাজার ৫৮৫, র‍্যাব ৭ হাজার ৭০০ এবং ১৩ হাজার ৩৯০ জন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

গোয়েন্দা সংস্থা ১৩টি আসনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ঢাকা-৮, ঢাকা-১৫, ঢাকা-৭, পাবনা-১ ও ৩, খুলনা-৫, পটুয়াখালী-৩, বরিশাল-৫, টাঙ্গাইল-৪, শেরপুর-৩, কুমিল্লা-৪, নোয়াখালী-৬ ও চট্টগ্রাম-১৫। এছাড়া মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ আসনের তালিকাও তৈরি করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরে মোট ২১৩১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৪ জন পুলিশ সদস্য এবং সাধারণ কেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটনের নিরাপত্তার জন্য ৮টি পৃথক কন্ট্রোল রুম এবং ৪টি বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। সুবিধাজনক স্থানে মোতায়েন থাকবে স্পেশাল রিজার্ভ ফোর্স, সোয়াত, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ক্রাইমসিন ভ্যান ও অশ্বারোহী পুলিশ। প্রয়োজন পড়লে দ্রুত যেকোনো স্থানে ফোর্স মোতায়েন করা যাবে।

নির্বাচন কমিশনাররা জানিয়েছেন, ভোটের দিন অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভোটাররা যাতে নিরাপদে ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে বিজিবিসহ সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে কাজ করবে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ সন্ত্রাসী, পেশাদার শুটার ও দুষ্কৃতিকারীদের তালিকা ধরে ম্যানুয়ালি ও ডিজিটালি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্র দখল, আধিপত্য বিস্তার ও সহিংসতা প্রতিরোধে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের অতিঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ও নজরদারির ক্ষেত্রে কোনো ছেদ রাখা হবে না।

আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, “সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবার প্রযুক্তির ব্যবহার অধিক হবে; ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারবে।”

এই নিয়ে নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাখ্যা দিচ্ছে সরকারি ও গোয়েন্দা সূত্র। ভোটের দিন জনশুমারী, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নজরদারির মাধ্যমে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।