ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

জনসংযোগ বাড়াতে ব্রিটেনজুড়ে সফরে বের হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

জনসংযোগ বাড়াতে ব্রিটেনজুড়ে সফরে বের হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

লন্ডন, ৯ আগস্ট:

জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং দেশের বিপর্যস্ত হাই স্ট্রিটগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা সামনে রেখে ব্রিটেনজুড়ে সফরে বের হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া এই সফরের লক্ষ্য সরকারের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ আরও ঘনিষ্ঠ করা এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সমস্যাগুলো সরাসরি শোনা।

কিয়ের স্টারমারের উত্তরসূরি হিসেবে গত মাসে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছুটা সময় জনমত বোঝার জন্য ব্যয় করেছেন বার্নহ্যাম। এবার তিনি সরকারের ঘোষিত ‘১০ বছরের পরিকল্পনা—আবার আশার আলো ফেরানো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ডাউনিং স্ট্রিট এখনো সফরের আনুষ্ঠানিক সূচি প্রকাশ করেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, গত এক দশকে লেবার পার্টির জনসমর্থন কমেছে এমন অঞ্চল এবং শিল্প অবক্ষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সফরের তালিকায় থাকবে। দক্ষিণ ওয়েলসের পোর্ট ট্যালবটও সম্ভাব্য গন্তব্যগুলোর একটি। সেখানে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানাটি রয়েছে এবং ২০২৪ সালে কারখানাটির শেষ ব্লাস্ট ফার্নেসটি বন্ধ হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ভোগান্তি—যেমন পণ্যের গোপন মূল্য নির্ধারণ বা ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়—কে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত নয়। এ কারণে সরকার পর্যায়ক্রমে ভোক্তাবান্ধব কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, যা মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমাতে সহায়তা করবে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি থাকায় যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো বড় রাজনৈতিক উদ্বেগের বিষয়। জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রকাশিত এক ইপসস জরিপে ৩০ শতাংশ মানুষ অর্থনীতিকে দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আর ২২ শতাংশ সরাসরি মূল্যস্ফীতি ও পণ্যের দামকে প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে প্রধানমন্ত্রীর নতুন উদ্যোগ নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনাও শুরু হয়েছে। ছায়া চ্যান্সেলর মেল স্ট্রাইড অভিযোগ করেছেন, বার্নহ্যামের ঘোষণাগুলো বড় ধরনের পরিবর্তনের বদলে ছোটখাটো সংস্কারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। তার দাবি, লেবার সরকারের নীতির কারণে ব্যবসাগুলো অতিরিক্ত প্রশাসনিক বিধিনিষেধের চাপে পড়ছে এবং হাই স্ট্রিটের পরিস্থিতি আরও কঠিন হচ্ছে।

স্ট্রাইডের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সরকারকে ব্যবসায়িক হার সংস্কারসহ হাই স্ট্রিট ব্যবসার জন্য আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধীদের বিষয়ে সরকারের নীতিরও সমালোচনা করেছেন তিনি।

রিফর্ম ইউকের ট্রেজারি মুখপাত্র রবার্ট জেনরিক জ্বালানি বিলের ওপর সবুজ শুল্ক ও কর কমানোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি সরকারের বাড়তে থাকা কল্যাণ ভাতা ব্যয় কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের ট্রেজারি মুখপাত্র ডেইজি কুপারও সরকারের আমলাতান্ত্রিক নীতির সমালোচনা করেছেন। তাঁর ভাষায়, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর জনগণের সমস্যা সমাধানের বাস্তব উদ্যোগের বদলে ‘লোক দেখানো সফর’ হয়ে উঠতে পারে।

সরকার অবশ্য বলছে, সফরের মূল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক প্রচারণা নয়; বরং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের বাস্তব সমস্যা সরাসরি শোনা এবং সেগুলোর ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণ করা। ফলে বার্নহ্যামের সফর শেষ পর্যন্ত জনসংযোগের উদ্যোগ হিসেবে কতটা কার্যকর হয় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় ও স্থানীয় অর্থনীতিতে তার বাস্তব প্রভাব কতটা পড়ে, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।