ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

মেসিকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, ফাঁস হলো বিশ্বকাপের নিরাপত্তার নথি

মেসিকে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, ফাঁস হলো বিশ্বকাপের নিরাপত্তার নথি

স্পোর্টস ডেস্ক, ৯ আগস্ট:

২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে ফাঁস হওয়া একটি পুলিশি নথিতে। স্পেনের সংবাদমাধ্যম ইনফরমাসিওন ডট ইএস নথিটির বরাতে জানিয়েছে, বিশ্বকাপ চলাকালে মেসিকে ঘিরে বোমা হামলার হুমকি, অনুসরণ এবং অনলাইনে ভয়ভীতি প্রদর্শনের একাধিক ঘটনা তদন্ত করা হয়।

নথিতে উল্লেখ করা সবচেয়ে গুরুতর ঘটনাটি ঘটে আটলান্টা স্টেডিয়ামকে ঘিরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যক্তি দাবি করেন, শরীরে বিস্ফোরক বেঁধে স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসিকে লক্ষ্য করে হামলা করবেন তিনি। ওই হুমকিতে নিজের শরীরে চারটি বোমা থাকার কথাও বলা হয়।

ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী তদন্ত শুরু করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এর বাইরে ডালাস বিমানবন্দরে আরেকটি ফোনকল নিয়েও তদন্ত হয়। এক ব্যক্তি পুলিশকে জানান, তিনজন ব্যক্তি ঘরে তৈরি বোমা ও একটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিয়ে একটি স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছে। ফোনকলে পুলিশ কর্মকর্তা ও দুই দলের খেলোয়াড়কে হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি মেসির নামও উল্লেখ করা হয়েছিল বলে নথিতে বলা হয়েছে।

মেসির পাশাপাশি নিরাপত্তা সতর্কতার মধ্যে ছিলেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও। একটি ফিফা কর্মী সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে রোনালদোর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করতে দেখেছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে।

বিশ্বকাপে শুধু খেলোয়াড়রাই নয়, ম্যাচ কর্মকর্তারাও অনলাইন হুমকির মুখে পড়েন। ফ্রান্সের রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ের কিছু সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা চলাকালে প্রায় ছয় হাজার হুমকিমূলক বার্তা পেয়েছিলেন বলে ফাঁস হওয়া নথিতে দাবি করা হয়েছে।

বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা কতটা বেড়ে যেতে পারে, এসব ঘটনা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবলারদের ঘিরে অনলাইন হুমকি থেকে সরাসরি হামলার আশঙ্কা পর্যন্ত তৈরি হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হয়েছিল আয়োজকদের।

তবে ফাঁস হওয়া নথিতে উল্লেখিত সব হুমকির সত্যতা, হুমকিদাতাদের পরিচয় কিংবা তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।