ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

১০ লাখের স্বপ্ন দেখিয়ে কিডনি নিল, দেশে ফিরে পেলেন মাত্র ৫০ হাজার

১০ লাখের স্বপ্ন দেখিয়ে কিডনি নিল, দেশে ফিরে পেলেন মাত্র ৫০ হাজার

বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ৮ আগস্ট:

১০ লাখ টাকা পাওয়ার আশায় নিজের একটি কিডনি দিতে রাজি হয়েছিলেন দিনমজুর মন্টু মিয়া। ঋণের বোঝা থেকে পরিবারকে বের করে আনার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, সেই স্বপ্নকে পুঁজি করেই তাঁকে নেপালে নিয়ে কিডনি অপসারণের পর দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫০ হাজার টাকা।

বাকি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এখনো পাননি তিনি।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দিনমজুর মন্টু মিয়ার অভিযোগ, আর্থিক সংকটের সুযোগ নিয়ে একটি দালাল চক্র তাঁকে কিডনি দেওয়ার বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে রাজি হওয়ার পর তাঁর পাসপোর্ট তৈরি করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারত হয়ে তাঁকে নেওয়া হয় নেপালে।

সেখানে একটি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁর একটি কিডনি অপসারণ করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন তিনি।

অস্ত্রোপচারের পর দেশে ফিরিয়ে আনার সময় চুক্তির ১০ লাখ টাকার পরিবর্তে তাঁকে দেওয়া হয় মাত্র ৫০ হাজার টাকা। বাকি টাকা পরে দেওয়ার কথা বলা হলেও বারবার যোগাযোগ করেও তা পাননি মন্টু। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা টাকা দেওয়ার এমন কোনো চুক্তির কথাই অস্বীকার করেন বলে তাঁর অভিযোগ।

শেষ পর্যন্ত প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।

মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন-সংক্রান্ত আইনে জয়পুরহাট আদালতে করা মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আরও তিন-চারজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে গত ১৪ জুন কালাই থানায় মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

তবে কিডনি দেওয়ার পর মন্টু মিয়ার জীবন যে আগের জায়গায় নেই, সেটিই এখন পরিবারের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর মন্টু আগের মতো দিনমজুরের কাজ করতে পারছেন না। অথচ তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ফলে ১০ লাখ টাকা পাওয়ার আশায় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, সেটিই এখন তাঁর পরিবারকে আরও গভীর আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মন্টুকে ব্যবহার করা হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একজন দরিদ্র মানুষের ঋণমুক্তির আকাঙ্ক্ষা কীভাবে তাঁকে নিজের শরীরের একটি অঙ্গ হারানোর দিকে ঠেলে দিল—মামলাটির তদন্তে এখন সেই প্রশ্নের উত্তরই খুঁজছে পুলিশ।