স্পাইডার-ম্যানের জালে আটকা বিশ্ব: ছয় দিনেই বিলিয়ন ডলারের ইতিহাস

স্পাইডার-ম্যানের জালে আটকা বিশ্ব: ছয় দিনেই বিলিয়ন ডলারের ইতিহাস

বিনোদন ডেস্ক, ভয়েস অব পিপল, ৭ আগস্ট:

সিনেমা শুধু বিনোদন নয়, কখনো কখনো এটি হয়ে ওঠে বৈশ্বিক সংস্কৃতির এক শক্তিশালী ভাষা। পর্দার একজন কাল্পনিক নায়ক যখন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের আবেগের অংশ হয়ে ওঠেন, তখন তার সাফল্য আর শুধু বক্স অফিসের হিসাব থাকে না—এটি হয়ে যায় একটি সাংস্কৃতিক ঘটনা। সেই ঘটনাই আবার প্রমাণ করল ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’

মুক্তির মাত্র ছয় দিনের মধ্যেই সনি ও মার্ভেলের এই সুপারহিরো চলচ্চিত্র বিশ্বব্যাপী আয় করেছে ১০০ কোটি ডলার বা এক বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ছবিটি ঢুকে পড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে সফল চলচ্চিত্রগুলোর বিশেষ ক্লাবে।

এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ তৈরি করেছে নতুন ইতিহাস। এক বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে পৌঁছানোর গতির হিসাবে এটি এখন দ্বিতীয় দ্রুততম চলচ্চিত্র। এর আগে এই রেকর্ড ছিল ২০১৯ সালের মহাকাব্যিক সুপারহিরো সিনেমা ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর, যা মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই ১২০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছিল।

টম হল্যান্ডের স্পাইডার-ম্যানের নতুন উড়ান

টম হল্যান্ড অভিনীত স্পাইডার-ম্যান চরিত্রটি এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে তরুণ দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়। ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’ সেই জনপ্রিয়তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

এটি টম হল্যান্ডের একক স্পাইডার-ম্যান সিরিজের চতুর্থ চলচ্চিত্র। মুক্তির আগেই ছবিটি নিয়ে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। কিন্তু বক্স অফিসের ফলাফল ছাড়িয়ে গেছে অনেক পূর্বাভাসকে।

উত্তর আমেরিকায় মুক্তির প্রথম চার দিনেই ছবিটি আয় করেছে প্রায় ৪০ কোটি ডলার। একই সঙ্গে এটি ওই অঞ্চলের বক্স অফিস ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত এই পর্যায়ের আয় করা চলচ্চিত্রের রেকর্ড করেছে।

শুধু তাই নয়, মুক্তির পর প্রথম সোমবারেই ছবিটি আয় করেছে ৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এর মাধ্যমে ভেঙেছে ২০১৮ সালের ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’-এর সোমবারের আয়ের রেকর্ড।

সুপারহিরোর প্রতি দর্শকের অটুট ভালোবাসা

ডিজিটাল যুগে সিনেমা দেখার ধরন বদলে গেছে। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, মোবাইল বিনোদন এবং নানা বিকল্পের মধ্যেও প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ঢল প্রমাণ করছে—বড় পর্দার আকর্ষণ এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’র সাফল্য দেখিয়েছে, একটি শক্তিশালী গল্প, পরিচিত চরিত্র এবং বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া ভক্তসমাজ একটি চলচ্চিত্রকে কীভাবে বৈশ্বিক ঘটনায় পরিণত করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছবিটির সামনে এখনো দীর্ঘ বাণিজ্যিক যাত্রা বাকি। বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেমা না থাকায় আগামী সপ্তাহগুলোতে এর আয় আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি দুই বিলিয়ন ডলারের ক্লাবে পৌঁছানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকে।

মার্ভেল সাম্রাজ্যের নতুন আত্মবিশ্বাস

মার্ভেল স্টুডিওসের জন্য এই সাফল্য শুধু একটি সিনেমার জয় নয়, এটি তাদের দীর্ঘদিনের ‘মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স’-এর জনপ্রিয়তারও প্রমাণ।

মার্ভেল স্টুডিওসের প্রেসিডেন্ট ও প্রযোজক কেভিন ফাইগি জানিয়েছেন, তিনি ভাবেননি ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর উত্তর আমেরিকার রেকর্ড ভাঙা সম্ভব হবে। কিন্তু মার্ভেলের ৩৮তম চলচ্চিত্র সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছে।

তার মতে, যখন একটি যৌথ চলচ্চিত্র জগত বা ইউনিভার্স সফলভাবে দর্শকের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে পারে, তখন এমন ফলাফল পাওয়া সম্ভব।

এই সাফল্য আগামী ডিসেম্বরে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ নিয়েও নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। নতুন এই ছবিতে অনেক জনপ্রিয় সুপারহিরোর প্রত্যাবর্তন ঘটবে। আর চমক হিসেবে রবার্ট ডাউনি জুনিয়র এবার আয়রন ম্যান নয়, বরং খলনায়ক ডক্টর ডুম চরিত্রে হাজির হবেন।

২০২৬: হলিউডের ঘুরে দাঁড়ানোর বছর?

২০২৬ সাল এখন পর্যন্ত হলিউডের জন্য বিশেষ একটি বছর হয়ে উঠেছে। চলতি বছরেই একাধিক চলচ্চিত্র এক বিলিয়ন ডলারের আয় অতিক্রম করেছে।

এর আগে ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’, ‘মাইকেল’ এবং ‘টয় স্টোরি ৫’ এই ক্লাবে জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’-ও এক বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

করোনা মহামারির পর সিনেমা ব্যবসা বড় ধাক্কা খেয়েছিল। ২০১৯ সালে এক বছরে নয়টি চলচ্চিত্র এক বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছিল। এরপর আর কোনো বছর এই সংখ্যাটি তিনের বেশি হয়নি।

তবে ২০২৬ সালের চিত্র ভিন্ন। ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’, ‘দ্য ওডিসি’, সামনে আসতে যাওয়া ‘ডিউন ৩’ এবং ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’—সব মিলিয়ে হলিউড আবারও বড় পর্দার স্বর্ণযুগে ফেরার স্বপ্ন দেখছে।

শেষ দৃশ্যের অপেক্ষায় দর্শক

স্পাইডার-ম্যানের গল্পে যেমন প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে নতুন কোনো রহস্য অপেক্ষা করে, তেমনি ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’র বাণিজ্যিক যাত্রার শেষ দৃশ্য এখনো লেখা হয়নি।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বিশ্বের দর্শক এখনো এমন নায়কদের দেখতে চায়, যারা কল্পনার জগত থেকে উঠে এসে সাহস, আশা ও সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠে।

স্পাইডার-ম্যান আবারও প্রমাণ করেছে, সুপারহিরো শুধু কমিকসের পাতায় বন্দি নয়; সে কোটি মানুষের স্বপ্নের অংশ। আর সেই স্বপ্নের জালেই এবার আটকা পড়েছে পুরো বিশ্ব।