জলবসন্তকে অবহেলা নয়, সতর্ক থাকার পরামর্শ

জলবসন্তকে অবহেলা নয়, সতর্ক থাকার পরামর্শ

শীত শেষে প্রকৃতিতে যখন বসন্তের শুরু, ঠিক তখনই শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে জলবসন্তে। বছরের এই সময়েই সাধারণত এই রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ে। 

তবে, সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে ঘরের চিকিৎসাতেই রোগীরা সুস্থ হয়। তবে, সতর্ক না হলে সামান্য জলবসন্তও হতে বড় বিপদের কারণ। 

যেমন, অনেকেই জলবসন্ত থেকে নিউমোনিয়া বা মস্তিষ্কে সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, জল বসন্ত হলে যথাযথ পরামর্শ ও সেবা নিতে হবে।

জলবসন্ত এক ধরনের অত্যন্ত সংক্রামক ব্যাধি। ভ্যারিসেলা জুস্টার ভাইরাস নামক এক প্রকার ভাইরাস দ্বারা সংক্রামিত হয়ে থাকে। শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে এই রোগটি বেশি হয়।

সাধারণত গরম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্বস্তিকর পরিবেশের বা শুষ্ক আবহাওয়ায় ভাইরাসটির আক্রমণ একটু বেশি দেখা দিয়ে থাকে।

জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের এই সময়টা জলবসন্ত বা চিকেন পক্সের। আগের বলা হয়েছে মূলত কিশোররাই এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। আট বছরের সজনী তাদেরই একজন। 

জ্বর থেকে শরীরে বসন্ত দেখা দেয়ার পর জ্ঞান হারিয়ে ফেলে শিশুটি। দ্রুত নেয়া হয় হাসপাতালে। এখন জ্ঞান ফিরলেও তার মানসিক বৈকল্য দেখা দিয়েছে। 

একই সমস্যায় সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি আরেক শিশু। যার বা পাশ অবশ হয়ে গেছে। অনেক শিশু ডায়রিয়া বা মাম্পসের সাথে পক্সে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। 

গেলো দুই মাসে রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকেন পক্সে আক্রান্ত ৫০ জনেরও বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন চার জন।

চিকিৎসকরা বলছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘরে থেকেই জল বসন্তের চিকিৎসা সম্ভব। তবে কখনো নিউমোনিয়া বা মানসিক সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে নিতে হবে।

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শ্রীবাস পাল জানান, রোগটি যাতে না ছড়ায় সেজন্য রোগীকে আলাদা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

সাধারণত একবার চিকেনপক্সে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হলে দ্বিতীয়বার আর হয় না। তবে এখন এর টিকা পাওয়া যাচ্ছে। চিকিৎসকের পরামর্শে টিকা নিতে পারে শিশুরা।