দেশে ভুয়া সাংবাদিকতা রোধে অনলাইন ডাটাবেজ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের উদ্যোগ নিচ্ছে প্রেস কাউন্সিল

দেশে ভুয়া সাংবাদিকতা রোধে অনলাইন ডাটাবেজ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের উদ্যোগ নিচ্ছে প্রেস কাউন্সিল

ঢাকা, ১৯ এপ্রিল — অবাধ তথ্যপ্রবাহের বর্তমান যুগে সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, প্রকৃত সাংবাদিকদের মর্যাদা নিশ্চিতকরণ এবং ভুয়া সাংবাদিকতা প্রতিরোধে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণসহ একটি অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন

রবিবার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এদিন বিকাল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল-এর সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৬তম দিনের কার্যক্রম শুরু হয়।

লিখিত প্রশ্নে সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীম ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রবাহ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, ভুয়া সংবাদ প্রতিরোধ এবং আধুনিক সম্প্রচার ব্যবস্থার উন্নয়ন বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চান। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের সুষ্ঠু বিকাশ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে নানা চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান।

জবাবে মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, ভুয়া সংবাদ ও অপপ্রচার প্রতিরোধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ন্যারেটিভ নির্মাণ, তথ্যনীতি সহায়তা এবং মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, প্রতি মাসে ঢাকার বাইরে চারটি এবং ঢাকায় দুটি করে কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাংবাদিক নেতাদের অংশগ্রহণে মাসে অন্তত একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হয়েছে এবং ফ্যাক্ট-চেকিং ও ভুয়া খবর প্রতিরোধে বিভিন্ন সংস্থা ও মূলধারার গণমাধ্যমের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সেমিনার ও আলোচনা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে তথ্য অধিদফতর থেকে ইতোমধ্যে ২২টি ফটোকার্ড এবং গুজব প্রতিরোধ বিষয়ে ১০টি তথ্যবিবরণী জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশের জন্য পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান

তিনি উল্লেখ করেন, প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর ১২ ধারা অনুযায়ী সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করতে পারে। বর্তমানে এ ধরনের আটটি অভিযোগ বিচারাধীন রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল ঢাকাসহ দেশের ৩২টি জেলায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করেছে। একইসঙ্গে সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং একটি অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলি আসগারের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করে এটিকে আরও শক্তিশালী ও গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে অসুস্থ, কর্মক্ষমতাহীন, দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক এবং নিহত সাংবাদিকদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত ১,১১০ জন সাংবাদিক অনুদান পেয়েছেন।

তিনি জানান, ৪০২ জন সাংবাদিক পরিবারের মেধাবী সন্তানকে ৭৩ লাখ ২৬ হাজার টাকার বৃত্তি দেওয়া হয়েছে এবং চলতি অর্থবছরে সাংবাদিক কল্যাণ খাতে মোট ৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

রমজান মাসে দুই হাজার সাংবাদিক পরিবারকে মোট ১ কোটি ১২ লাখ ৩৪ হাজার টাকার ইফতার ও ঈদ উপহার প্রদান করা হয়েছে বলেও সংসদে জানান তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।