সিলেটে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত: একসঙ্গে ৬৩ এতিম কন্যার গণবিবাহ
সিলেট প্রতিনিধি, ১৯ এপ্রিল:
সিলেট নগরীতে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে একসঙ্গে ৬৩ জন এতিম কন্যার গণবিবাহ আয়োজনের মধ্য দিয়ে। যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের সংগঠন “সিডস অব সাদাকাহ (Seeds of Sadakah – SOS)” এর উদ্যোগে সম্পূর্ণ বিনা খরচে ও যৌতুকবিহীন এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার নগরীর বালুচর এলাকার একটি অভিজাত কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক ব্যতিক্রমী সামাজিক উৎসবে। দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশ ছিল আবেগ, আনন্দ ও মানবিকতার মিশেলে ভরপুর।
বর-কনে, অভিভাবক ও অতিথিদের উপস্থিতিতে মুহূর্তে মুহূর্তে বদলে যাচ্ছিল দৃশ্যপট। কারও চোখে আনন্দের অশ্রু, কারও মুখে কৃতজ্ঞতার হাসি—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে এক বিরল সামাজিক অভিজ্ঞতা।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. রেদওয়ানুর রহমান। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান বেলাল এবং সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস উন নূর। আয়োজক সংগঠনের পক্ষে বক্তব্য দেন আবুল খায়ের ও জয়নুল আবেদীন রুহেল।
বক্তারা বলেন, যৌতুকবিহীন বিয়ে বাস্তবেও সম্ভব—এই আয়োজন তার বাস্তব প্রমাণ। ইসলামের বিয়েকে সহজ করার নির্দেশনার প্রতিফলন ঘটেছে এখানে। তারা নবদম্পতিদের জন্য সুখী, শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পারিবারিক জীবনের শুভকামনা জানান।
ইসলামী চিন্তাবিদ শাহ ওয়ালীউল্লাহ বিয়ের খুতবা পাঠ করেন এবং পর্যায়ক্রমে ৬৩টি দম্পতির বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। পরে নবদম্পতিদের কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
নবদম্পতিদের জন্য দেওয়া হয় প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী—যার মধ্যে ছিল খাট, বালিশ, তোশক, পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী। আয়োজকদের মতে, এসব সহায়তা নতুন জীবনের সূচনাকে আরও সহজ ও মর্যাদাপূর্ণ করবে।
আয়োজনে মোট ১২৬ জন হতদরিদ্র, এতিম ও অসহায় তরুণ-তরুণী বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রতিটি দম্পতিকে প্রায় দুই লক্ষ টাকা মূল্যের ৭৭ প্রকার গৃহস্থালি সামগ্রী প্রদান করা হয়।
সংগঠনের প্রধান জয়নুল আবেদীন জানান, সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের নতুন জীবনের পথ সহজ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সব মিলিয়ে সেদিন সিলেটের বালুচর এলাকার কনভেনশন সেন্টার পরিণত হয়েছিল এক নীরব সামাজিক বিপ্লবের সাক্ষীতে—যেখানে ৬৩টি নতুন পরিবার শুরু করল তাদের যাত্রা, আশা, মর্যাদা ও ভালোবাসার আলোয়।