বিশ্ব নাট্য দিবস: বাংলাদেশের মঞ্চে এক দিনের উৎসব
বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক : আজ ২৭ মার্চ, বিশ্ব নাট্য দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিনটি নানা আয়োজন ও অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে। মূল আয়োজনে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, যেখানে দিনব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে নাট্যচর্চা ও সংস্কৃতিকে উদযাপন করা হচ্ছে।
বিশ্ব নাট্য দিবসের প্রবর্তন ঘটে ১৯৬১ সালে ভিয়েনার ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউটের নবম কংগ্রেসে। ১৯৬২ সালে প্যারিসে ‘থিয়েটার অব নেশনস’ উৎসবের সূচনার দিন, অর্থাৎ ২৭ মার্চ, প্রতি বছর বিশ্ব নাট্য দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো নাট্যকর্মীদের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করা এবং নাট্যচর্চার মান উন্নয়ন করা।
আজ বিকেল ৫টায় জাতীয় নাট্যশালা থেকে শুরু হবে আনন্দ শোভাযাত্রা, আয়োজকরা ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইনস্টিটিউট (বাংলাদেশ সেন্টার) এবং বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় নাট্যশালার লাউঞ্জে প্রীতি সম্মিলনী অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রধান মিলনায়তনে আয়োজন করা হয়েছে আলোচনা অনুষ্ঠান, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় বাণী পাঠ, সম্মাননা প্রদান, নাট্যদিবস বক্তৃতা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
বিশেষ শিশু আয়োজনে নাট্যসংগঠন বটতলা স্টুডিও থিয়েটার হলে দুপুর ৬টা ৩০ মিনিটে দুটি নাটক ‘ফাংসাং’ ও ‘গালিভারস ট্রাভেলস’ মঞ্চস্থ করবে। সঙ্গে থাকবে কাকতাড়ুয়া পাপেট থিয়েটারের পাপেট শো।
একই সময়ে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ও বিশ্ব নাট্য দিবস উদযাপন উপলক্ষে নাট্যসংগঠন স্বপ্নদল বিশেষ আয়োজন করেছে। সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তনে প্রদর্শিত হবে ‘ত্রিংশ শতাব্দী’ নাটক। বাদল সরকারের মূল রচনার ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধবিরোধী ও শান্তিপ্রত্যাশী এই নাটকের রূপান্তর ও নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন।
অনুষ্ঠানের সমাপ্তি অংশে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক ‘মেডাল অব দ্য অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া’ প্রাপ্ত নাট্যব্যক্তিত্ব কামরুজ্জামান বালার্ক-কে স্বপ্নদলের পক্ষ থেকে সম্মাননা প্রদান করা হবে।
এই আয়োজনগুলো শুধু নাট্যকর্মীদের জন্য নয়, বরং সাধারণ দর্শক, শিশু ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের জন্যও সমানভাবে উৎসবমুখর পরিবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে।