ট্রাম্পের বক্তব্য “অত্যন্ত অপমানজনক এবং ভয়াবহ” : ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

ট্রাম্পের বক্তব্য “অত্যন্ত অপমানজনক এবং ভয়াবহ” :  ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

ভয়েস অব পিপল ডেস্ক রিপোর্ট:  আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় ন্যাটো মিত্রদের ভূমিকা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের বক্তব্য “অত্যন্ত অপমানজনক এবং ভয়াবহ” এবং এমন ধরনের মন্তব্যের জন্য প্রেসিডেন্টকে ক্ষমা চাইতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আফগানিস্তান যুদ্ধে মার্কিন মিত্ররা সরাসরি সম্মুখভাগে না থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেছিল। ট্রাম্পের এই মন্তব্য কেবল যুক্তরাজ্যেই নয়, ইউরোপের অন্যান্য দেশেও ক্ষোভের ঝড় তুলেছে।

স্টারমার শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বলেন, “যদি আমি এমন কোনো ভুল বক্তব্য দিতাম, অবশ্যই ক্ষমা চাইতাম। আফগানিস্তানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের ত্যাগকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।” তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্য এই যুদ্ধে মার্কিন পরের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে। দুই দশকব্যাপী যুদ্ধের সময় প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার ব্রিটিশ সেনা অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ৪৫৭ জন শহীদ হয়েছেন।

রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাড়াও ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স হ্যারি এই বিতর্কে সরাসরি যুক্ত হয়েছেন। আফগানিস্তানে দুইবার দায়িত্ব পালন করা হ্যারি বলেন, “আমাদের সেনাদের বীরত্ব ও আত্মত্যাগ সবসময় সম্মান ও সত্যনিষ্ঠভাবে তুলে ধরতে হবে।”

পোল্যান্ড ও ডেনমার্কসহ অন্যান্য ন্যাটো দেশও ট্রাম্পের মন্তব্যকে অসত্য ও অসম্মানজনক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে হোয়াইট হাউস স্টারমারের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। মুখপাত্র টেলর রজার্স বলেন, “ন্যাটোর অন্যান্য দেশ যা করেছে, তার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি।”

ট্রাম্পের মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্কের উত্তেজনা চলছে। এর আগে ট্রাম্প ডেনমার্কসহ ইউরোপের কিছু দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। যদিও পরে ন্যাটোর মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, আফগানিস্তান বিষয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মনোভাব ন্যাটোর ভবিষ্যতের ওপর বড় ধরনের অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলছে, বিশেষ করে ২০২৬ সালের পরে জোটের কার্যক্রম ও মিত্র দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।