মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি বাড়ালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতে রাজা চার্লসের সফরে আশাবাদ
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৪ এপ্রিল:
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ এবং একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের বার্তা—দুই দিকেই সক্রিয়তা দেখিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সাম্প্রতিক ঘোষণায় তিনি যেমন ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন, তেমনি ব্রিটিশ রাজা কিং চার্লস এর আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাব্য মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।
যুদ্ধবিরতি বাড়ল: মধ্যপ্রাচ্যে স্বস্তির ইঙ্গিত
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, Israel-এর ইসরায়েল ও Lebanon-এর লেবাননের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হয়েছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত বৈঠক অত্যন্ত সফল হয়েছে।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র লেবাননের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে, যাতে দেশটি Hezbollah-এর হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর হুমকি মোকাবিলা করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, অদূর ভবিষ্যতে দুই দেশের নেতাদের হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে, যা আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক: রাজকীয় সফরে নতুন আশা
অন্যদিকে BBC-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ব্রিটিশ রাজা রাজা চার্লস তৃতীয় এবং রানি Queen Camilla-এর রানি ক্যামিলার আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, “অবশ্যই—তিনি একজন অসাধারণ মানুষ। বহু বছর ধরে তাকে চিনি। এই সফর অবশ্যই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।” জানা গেছে, রাজা ও রানি চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি রাজা কংগ্রেসে ভাষণ দেবেন এবং ব্যক্তিগত বৈঠকেও অংশ নেবেন।
যুক্তরাজ্যের Foreign Office জানিয়েছে, এই সফর যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হবে এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও অংশীদারিত্বকে তুলে ধরবে।
স্টারমারের নীতির সমালোচনা
সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নীতিরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তন না আনলে কিয়ার স্টারমারের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে পারে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নর্থ সি অঞ্চলে জ্বালানি উত্তোলন বাড়ানো প্রয়োজন। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প Truth Social-এ যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে Lord Mandelson-এর লর্ড ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
তবে ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের জবাবে কিয়ার স্টারমার বলেছেন, তিনি যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন এবং কোনো বাইরের চাপের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন না।
ইরান ইস্যুতে মতপার্থক্য
ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনাও যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের আরেকটি স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে উঠেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একাই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম এবং মিত্রদের সক্রিয় সমর্থন ছাড়াই পদক্ষেপ নিয়েছে।
অন্যদিকে কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাজ্য বৃহত্তর কোনো সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহী এবং সতর্ক অবস্থান বজায় রাখবে। এতে দুই দেশের মধ্যে নীতিগত দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিবিসির সঙ্গে আইনি বিরোধ
সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিবিসির বিরুদ্ধে তার আইনি লড়াইয়ের বিষয়টিও তুলে ধরেন। ২০২১ সালের Capitol riot on 6 January 2021-সংক্রান্ত একটি ডকুমেন্টারি ঘিরে এই বিরোধের সৃষ্টি।
তিনি অভিযোগ করেন, বিবিসি তার বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে। যদিও প্রতিষ্ঠানটি এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে, তবে তারা মানহানির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে—তাদের বিরুদ্ধে আনা দাবির কোনো ভিত্তি নেই এবং তারা আদালতে নিজেদের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরবে।
কূটনীতিতে দ্বিমুখী সক্রিয়তা
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো, অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা—এই দুই ক্ষেত্রেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন কৌশলগতভাবে সক্রিয়। এতে বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা আরও জোরদার হতে পারে।