ইরানে যুদ্ধের জেরে চাকরি গেল ২০ লাখ মানুষের
বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ২২ এপ্রিল:
মধ্যপ্রাচ্যের টানটান উত্তেজনা আর যুদ্ধের বাস্তবতা এখন আর কেবল সীমান্তে সীমাবদ্ধ নেই; এর অভিঘাত ছড়িয়ে পড়েছে অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা, অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার ভাঙন—সব মিলিয়ে গভীর সংকটে পড়েছে Iran-এর অর্থনীতি।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ ইতিমধ্যে চাকরি হারিয়েছে, আর আরও প্রায় এক কোটি থেকে এক কোটি বিশ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে।
বুধবার তাসনিম নিউজের বরাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ইরানের শ্রম উপমন্ত্রী এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সংস্থার প্রধান গোলাম হোসেন মোহাম্মদী স্বীকার করেছেন—যুদ্ধের প্রাথমিক ধাক্কাতেই প্রায় ১০ লাখ মানুষ সরাসরি কর্মহীন হয়ে পড়েছে। পরবর্তীতে পরোক্ষ প্রভাব মিলিয়ে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ লাখে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সংকট কেবল যুদ্ধের ফল নয়; বরং বহুদিন ধরে চলা নিষেধাজ্ঞা, বৈদেশিক বাণিজ্যে সীমাবদ্ধতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর খাতগুলোর অচলাবস্থার সম্মিলিত ফল।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের তেল ও গ্যাস খাত, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম কারখানার মতো গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে ডিজিটাল অর্থনীতিও কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।
এর ফলে শুধু শিল্প উৎপাদন নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছোট ব্যবসা, সেবা খাত এবং অনলাইনভিত্তিক কর্মসংস্থানও—যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভরসা হয়ে উঠেছিল।
সোশ্যাল সিকিউরিটি অর্গানাইজেশনের সাবেক অর্থনীতিবিদ হাদি কাহালজাদেহ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, দেশের মোট জনশক্তির প্রায় অর্ধেকই এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। তার হিসাবে, প্রায় ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়েছে—যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সরকার পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন গোলাম হোসেন মোহাম্মদী। তিনি বলেন, নতুন কর্মসূচির লক্ষ্য কেবল সংখ্যাগত চাকরি সৃষ্টি নয়, বরং দক্ষতা উন্নয়ন ও ভবিষ্যতমুখী খাতে প্রস্তুতি।
তার ভাষায়, “আমরা এখন পুনর্গঠন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি।”
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবতা হলো—যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও প্রযুক্তিগত বিচ্ছিন্নতার ত্রিমুখী চাপ থেকে বেরিয়ে আসা ইরানের জন্য সহজ হবে না। কর্মসংস্থানের এই সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধক্ষত ইরানের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—অর্থনীতিকে টিকিয়ে রেখে ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন কর্মসংস্থানের ভিত্তি গড়ে তোলা।