এজলাসে হট্টগোল, স্লোগানে উত্তাল আদালত: কারাগারে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন

এজলাসে হট্টগোল, স্লোগানে উত্তাল আদালত: কারাগারে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন

ঢাকা প্রতিনিধি, ৮ এপ্রিল:

রাজধানীর আদালত প্রাঙ্গণ মঙ্গলবার যেন পরিণত হয়েছিল এক অস্থির রাজনৈতিক মঞ্চে। সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ ঘিরে আইনজীবীদের পাল্টাপাল্টি স্লোগান, তীব্র উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলায় পুরো পরিবেশ মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ভোরবেলায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে আটক হওয়ার পর তাকে রাজধানীর লালবাগ থানার একটি সহিংসতা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টা সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। তদন্তের স্বার্থে দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করে ডিবি। কিন্তু শুনানি ঘিরেই শুরু হয় নাটকীয়তা।

বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে তাকে এজলাসে তোলা হলে আদালতকক্ষে দ্রুতই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগপন্থী ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে স্লোগান আর বাকবিতণ্ডা রীতিমতো বিশৃঙ্খলার জন্ম দেয়। “জয় বাংলা” স্লোগানে আদালতের ভেতর ও বারান্দা মুখর হয়ে ওঠে, যা বিচারিক পরিবেশকে চরমভাবে ব্যাহত করে।

শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—দুই আবেদনই নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদেশ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এজলাসেই হট্টগোল শুরু করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে, বিচারক কার্যত নির্লিপ্ত অবস্থায় বসে থাকতে বাধ্য হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। তিনি আইনজীবীদের এজলাস ত্যাগের আহ্বান জানান, তবে তাতেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

এক পর্যায়ে বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে না পেরে বিচারক ক্ষোভ ঝাড়েন আদালতে দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর। পরে তাদের এজলাস থেকে বের করে দেওয়া হয়—যা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বিচারিক স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে।

শুনানি শেষে যখন শিরীন শারমিন চৌধুরীকে হাজতখানার দিকে নেওয়া হচ্ছিল, তখন আদালত প্রাঙ্গণে আবারও শুরু হয় “জয় বাংলা” স্লোগান। স্লোগানদাতাদের বড় অংশই ছিলেন আইনজীবী। এই পুরো সময় জুড়ে সাবেক স্পিকারকে দেখা গেছে নিস্তব্ধ, নির্লিপ্ত—চোখেমুখে স্পষ্ট বিষণ্নতার ছাপ।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে আনা হলেও অন্যান্য আলোচিত আসামিদের মতো তার গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট বা হেলমেট ছিল না। এছাড়া, শুনানির এক পর্যায়ে নিজ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলেও আদালত তাকে সে অনুমতি দেয়নি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দেশের বিচারব্যবস্থার পরিবেশ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং আদালত প্রাঙ্গণে শৃঙ্খলার প্রশ্ন। আদালত কি শুধুই আইনের জায়গা, নাকি সেখানে রাজনীতির কার্যক্রম ক্রমেই গাঢ় হচ্ছে—এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।