যুক্তরাষ্ট্র সফরে ব্রিটিশ রাজদম্পতি: হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প দম্পতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৭ এপ্রিল:
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির হোয়াইট হাউসে সোমবার এক রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে পৌঁছান কিং চার্লস ৩য় এবং রানী কামেলা। সফরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প এবং ফার্স্ট লেডি মেলেনিয়া ট্রাম্প তাঁদের স্বাগত জানান।

হাত মেলানো, সৌজন্য বিনিময় এবং ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সাক্ষাৎ। পরে চারজনই হোয়াইট হাউসের ভেতরে ব্যক্তিগত চায়ের আড্ডায় অংশ নেন। বাইরে ব্রিটিশ পতাকায় সাজানো পরিবেশে দুই দেশের দীর্ঘ সম্পর্কের প্রতীকী প্রদর্শনও দেখা যায়।
সফরের অংশ হিসেবে ট্রাম্প দম্পতি রাজা-রানিকে হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে সম্প্রসারিত মৌচাক ঘুরিয়ে দেখান, যা সাম্প্রতিক সময়ে ভবনটির একটি নতুন সংযোজন। এরপর ব্রিটিশ দূতাবাসে আয়োজিত এক গার্ডেন পার্টিতেও অংশ নেন তারা।

হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি জানিয়েছেন, এই সফরের প্রস্তুতিতে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের বিশেষ সম্পর্ককে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা যায়।
তবে এই সফরের পরিবেশ পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। গত সপ্তাহান্তে ওয়াশিংটনের একটি হোটেলে বন্দুক হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই হামলায় মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। এর ফলে রাজা-রানির আগমনের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়।

রাজপ্রাসাদ সূত্র জানায়, এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সফর বাতিল হয়নি। বরং তারা “শান্ত থেকে দায়িত্ব পালন” নীতিতে এগোচ্ছেন। সফরের আগে এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগের কারণে এই রাষ্ট্রীয় সফর চালু রাখা সম্ভব হয়েছে।
চার দিনের এই সফরে রাজা চার্লস মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দেবেন এবং হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেবেন। এরপর তিনি নিউইয়র্কে ৯/১১ স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করবেন এবং ভির্জিনিয়ায় পরিবেশ ও সংরক্ষণ বিষয়ক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
তবে সফরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও জটিল। ইরান ইস্যুতে সাম্প্রতিক অবস্থান ও আন্তর্জাতিক নীতিতে মতপার্থক্যের কারণে ওয়াশিংটন–লন্ডন সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্রিটেনের কিছু সিদ্ধান্তের সমালোচনাও এসেছে।
এর মধ্যেই রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক, বিশেষ করে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর বিতর্কিত সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের কিছু সদস্য এমনকি রাজাকে যৌন নির্যাতন বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে রাজপ্রাসাদ জানিয়েছে, এই সফরে এমন কোনো বৈঠক হবে না।
সব মিলিয়ে এই সফর একদিকে ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতীক, অন্যদিকে আধুনিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অভ্যন্তরীণ বিতর্কের এক জটিল প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
লন্ডনের পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিক সৌজন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র–যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার একটি সূক্ষ্ম বার্তাও বহন করছে।