মিসাইলের শব্দে থেমে গেল বক্তৃতা, ‘আয়রন ডোম’ ছাপিয়ে দৌড় দিলেন প্রেসিডেন্ট

মিসাইলের শব্দে থেমে গেল বক্তৃতা, ‘আয়রন ডোম’ ছাপিয়ে দৌড় দিলেন প্রেসিডেন্ট

ভয়েস অব পিপল ডেস্ক, ২৪ মার্চ : যুদ্ধের ময়দানে শক্তির বড়াই যত সহজ, বাস্তবের বিস্ফোরণের শব্দ ততটাই নির্মম—এবার যেন সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল উত্তর ইসরায়েলের একটি ঘটনা।

সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট Isaac Herzog। চারপাশে সাংবাদিক, ক্যামেরা, আলো—সবই ঠিকঠাক। কিন্তু হঠাৎ করেই দৃশ্যপট বদলে যায়। আকাশ চিরে ধেয়ে আসে একটি ক্ষেপণাস্ত্র, বিকট শব্দে আছড়ে পড়ে কাছাকাছি এলাকায়। আর সেই শব্দের সঙ্গে সঙ্গেই থেমে যায় রাষ্ট্রীয় ভাষণ—শুরু হয় ব্যক্তিগত বাঁচার দৌড়।

প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অসমাপ্ত রেখেই তাকে দ্রুত সরিয়ে নেন নিরাপত্তারক্ষীরা। সাংবাদিকরা তখনও ক্যামেরা হাতে দাঁড়িয়ে, কিন্তু তাদের সামনে যে দৃশ্য—তা কোনো আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের নয়, বরং একেবারে খাঁটি আতঙ্কের।

ঘটনাটি ঘটে কিরিয়াত শমোনা শহরে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েক সেকেন্ড আগেও যিনি আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তিনিই মুহূর্তের মধ্যে আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। বিশ্লেষকদের ভাষায়, এই দৃশ্য শুধু একজন নেতার নয়—একটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ধারণার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে।

এদিকে ইরান শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে, তাদের ওপর যেকোনো হামলার জবাব তারা দেবে। সাম্প্রতিক পাল্টা আঘাতে সেই বার্তাই যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ইসরায়েলের বহুল আলোচিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

যুদ্ধের প্রচারণা আর বাস্তবতার ব্যবধান যে কতটা, তা বোঝাতে কখনো কখনো একটি ভিডিও-ই যথেষ্ট। আর এই ঘটনায় সেটাই আবারও প্রমাণিত হলো—মঞ্চের ভাষণ যত জোরালোই হোক, আকাশ থেকে নামা একটিমাত্র মিসাইল সব হিসাবই মুহূর্তে বদলে দিতে পারে।