ব্রিটেন সংবাদ
জুলাইতেই ১.৮ বিলিয়ন পাউন্ড ঘাটতি, বাজেটের আগে চাপে ব্রিটিশ সরকার
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২২ আগস্ট: নতুন অর্থবছরের শুরুতেই ব্রিটিশ সরকারের অর্থভাণ্ডারে দেখা দিয়েছে অপ্রত্যাশিত চাপ। জুলাই মাসে সরকারের বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১.৮ বিলিয়ন পাউন্ড, যেখানে বিশ্লেষকেরা প্রায় ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থার প্রত্যাশা করেছিলেন। একই সময়ে দেশটির খুচরা বিক্রিও তিন মাসের মধ্যে প্রথমবার কমেছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এবার সরকারি ঋণগ্রহণ বেড়েছে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন পাউন্ড। আর বাজেটের পূর্বাভাসদাতা সংস্থা Office for Budget Responsibility (OBR)-এর হিসাবের তুলনায় প্রকৃত ঘাটতি হয়েছে প্রায় ২.৩ বিলিয়ন পাউন্ড বেশি।
সাধারণত জুলাই মাসে সরকারের আয় বাড়ার কথা। কারণ এ সময়ে স্বনির্ধারিত আয়কর (Self-Assessment) থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব আসে। এবারও কর আদায় বেড়েছে। কিন্তু সরকারি ব্যয় সেই আয় বৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
ঋণ প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন পাউন্ড
সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ। জুলাই শেষে সরকারি ঋণ প্রায় ২.৯৮ ট্রিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে, যা দেশটির মোট জিডিপির প্রায় ৯৪ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৯৬ বিলিয়ন পাউন্ড।
এর ফলে আগামী ২৮ অক্টোবরের বাজেট সামনে রেখে চ্যান্সেলর জন হিলির ওপর ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় কঠোর হওয়ার চাপ আরও বাড়ল।
হিলি বলেছেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তি হচ্ছে আর্থিক শৃঙ্খলা। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও সরকারের আর্থিক নিয়ম মেনে চলার প্রতিশ্রুতির কথা তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
কমেছে খুচরা বিক্রি
সরকারের রাজস্ব ও ঋণের চাপের সঙ্গে যোগ হয়েছে ভোক্তা বাজারের দুর্বলতার নতুন ইঙ্গিত। জুলাইয়ে ব্রিটেনে খুচরা বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ০.৫ শতাংশ কমেছে। তিন মাসের মধ্যে এটি প্রথম পতন। বছরে বিক্রির প্রবৃদ্ধিও প্রত্যাশার চেয়ে কম হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি এখনই বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দার প্রমাণ নয়। তবে মূল্যস্ফীতি, ঋণের উচ্চ ব্যয় এবং ভবিষ্যতে কর বাড়ার আশঙ্কা ভোক্তাদের ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে আগস্টে পরিষেবা খাতের কার্যক্রমে কিছুটা গতি এবং ভোক্তা আস্থায় উন্নতির খবর এসেছে। ফলে ব্রিটিশ অর্থনীতির চিত্র পুরোপুরি নেতিবাচক নয়।
তবে সরকারের সামনে মূল প্রশ্ন এখন একটাই—ঋণ ও ঘাটতি সামলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
জুলাইয়ের এই অপ্রত্যাশিত ঘাটতি সেই কাজটিকেই চ্যান্সেলর জন হিলির জন্য আরও কঠিন করে তুলেছে। অক্টোবরের বাজেটে তাই কর, সরকারি ব্যয় ও ঋণ—তিনটি ক্ষেত্রেই কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে পারে ব্রিটিশ সরকার।