তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল
ট্রাম্পের নির্বাচনী ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন সমীকরণ, কমছে তেলের দাম; ইরান যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা কতটা?
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ৬ নভেম্বর :
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের বড় পরাজয় শুধু আমেরিকার রাজনীতিতেই নয়, বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ, ইসরায়েলের সামরিক অবস্থান, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং বিশ্বব্যাপী দ্রব্যমূল্যের ওপর এর প্রভাব নিয়ে নতুন করে হিসাব করতে শুরু করেছেন বিনিয়োগকারীরা।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরপরই আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের পতন ঘটে। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটতে পারে। তবে যুদ্ধ বন্ধের কোনো চূড়ান্ত চুক্তি এখনো হয়নি।
রয়টার্স, বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান, সিবিএস নিউজ এবং আনাদোলু এজেন্সির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বিশ্ব অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাবের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে।
১. তেলের বাজারে বড় ধস, আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সবচেয়ে বড় প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
৫ নভেম্বর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের দিনের লেনদেনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশের বেশি কমে যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দামও প্রায় ৯ শতাংশ পড়ে দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়।
ডব্লিউটিআইয়ের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮৭ ডলারে এবং ব্রেন্ট ক্রুড ৯৪ ডলারের নিচে নেমে আসে।
তবে ৫ নভেম্বর পরবর্তী লেনদেনে তেলের দাম আবার কিছুটা বেড়েছে। সিবিএস নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছায়।
অর্থাৎ বাজারে পতন ঘটলেও পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল নয়।
তেলের দাম কমার প্রধান কারণ হলো, বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন নির্বাচনে পরাজয়ের পর ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী হতে পারেন। যুদ্ধ বন্ধ হলে পারস্য উপসাগর থেকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে মনে রাখতে হবে, যুদ্ধ শুরুর আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার। বর্তমান দাম তার চেয়ে এখনো অনেক বেশি।
২. ইরান যুদ্ধ বন্ধ হলে কী হবে?
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখন ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ।
গত আট মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের জ্বালানি রপ্তানির জন্যও এই পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরান এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হয়। জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় পরিবহন ও বিমা ব্যয়ও বেড়ে যায়।
সিবিএস নিউজের ৫ নভেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পরও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ হামলা ও সমুদ্রের মাইনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে তেলের দাম কমলেও সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
অন্যদিকে কাতার, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার উদ্যোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে।
- হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে।
- আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বাড়তে পারে।
- জ্বালানি পরিবহন ও বিমা ব্যয় কমতে পারে।
- প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারে সরবরাহের চাপ কমতে পারে।
- বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে।
তবে ইরান যুদ্ধ বন্ধ হলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। নিষেধাজ্ঞা, ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রশ্নগুলোও সমাধান করতে হবে।
৩. ইসরায়েলের ওপর বাড়তে পারে মার্কিন রাজনৈতিক চাপ
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় ইসরায়েলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রয়টার্সের ৪ ও ৫ নভেম্বরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান, গাজা পরিস্থিতি এবং ইরানবিরোধী যুদ্ধে মার্কিন সহযোগিতা নিয়ে আরও কঠোর প্রশ্ন তুলতে পারে।
বিশেষ করে ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক সহায়তা ও অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি নতুন করে কংগ্রেসের আলোচনায় আসতে পারে।
ডেমোক্র্যাটদের একটি অংশ ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে আসছে। নির্বাচনে বিজয়ী কয়েকজন প্রার্থীও ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেও ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। ফলে ডেমোক্র্যাটদের বিজয় মানেই ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন নীতির তাৎক্ষণিক পরিবর্তন নয়।
৪. দ্রব্যমূল্য কমার সম্ভাবনা কতটা?
বিশ্বের সাধারণ মানুষের কাছে তেলের দাম কমার সবচেয়ে বড় গুরুত্ব হলো জীবনযাত্রার ব্যয়।
কারণ জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শুধু গাড়ির জ্বালানি নয়, খাদ্য উৎপাদন, কৃষি, পরিবহন, বিদ্যুৎ, শিল্পকারখানা এবং পণ্য সরবরাহের খরচও বেড়ে যায়।
বিশেষ করে ডিজেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়লে কৃষি উৎপাদন ও সার তৈরির খরচ বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে চাল, গম, ভুট্টা, সবজি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামে।
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব ইতিমধ্যে বিশ্ববাজারে পড়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের ৪ নভেম্বরের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জ্বালানি সংকট বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
যুদ্ধের উত্তেজনা কমলে তেল, গ্যাস, সার ও পরিবহন ব্যয় কমার সুযোগ তৈরি হবে। এতে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির চাপও ধীরে ধীরে কমতে পারে।
তবে তেলের দাম একদিনে ৮-৯ শতাংশ কমলেই বাজারে চাল, গম, মাছ, মাংস কিংবা অন্যান্য পণ্যের দাম সঙ্গে সঙ্গে কমে যাবে না। উৎপাদন, মজুত, পরিবহন ও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পৌঁছাতে সময় লাগে।
৫. ডলারের দরপতন, স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি
মার্কিন নির্বাচনের ফল আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারেও প্রভাব ফেলেছে।
আনাদোলু এজেন্সির ৫ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের পর মার্কিন ডলার সূচক দুর্বল হয়েছে। অন্যদিকে ইউরোর দাম বেড়েছে। একই সময়ে স্বর্ণের দামও বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স প্রায় ৪ হাজার ১৫০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়।
এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে।
প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে হিসাব করছেন।
দ্বিতীয়ত, যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণের মতো নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন।
তৃতীয়ত, ডলারের দুর্বলতা আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়াতে সহায়তা করেছে।
তবে ডলারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার, মূল্যস্ফীতি, সরকারি ঋণ এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
৬. যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে?
যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের দেশগুলো জ্বালানি আমদানির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা কমলে এসব দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তেলের দাম কমলে পেট্রোল, ডিজেল, পরিবহন এবং উৎপাদন ব্যয়ের ওপর চাপ কমতে পারে।
এতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বাজারেও স্বস্তি আসার সুযোগ রয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যে জ্বালানি বিলের পরিবর্তন আন্তর্জাতিক বাজারের দামের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার মূল্যসীমা, সরবরাহ চুক্তি এবং অন্যান্য ব্যয়ের ওপর নির্ভর করে।
অন্যদিকে ডলারের তুলনায় পাউন্ড ও ইউরো শক্তিশালী হলে আমদানি ব্যয় কমার সুযোগ তৈরি হয়।
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় কমলে বাজারের খাদ্যপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং অন্যান্য আমদানি করা পণ্যের দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তবে সুপারমার্কেটের পণ্যের দাম কমতে কত সময় লাগবে, তা নির্ভর করবে সরবরাহকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের মূল্য নির্ধারণের ওপর।
৭. চীন, ভারত ও বাংলাদেশের জন্য কী অর্থ বহন করছে?
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে এশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানিনির্ভর দেশগুলো।
চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে।
তেলের দাম কমলে এসব দেশের আমদানি ব্যয় কমার সুযোগ তৈরি হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমতে পারে।
ভারত: ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় তেল আমদানিকারক। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে দেশটির আমদানি ব্যয় ও জ্বালানি ভর্তুকির চাপ কমতে পারে।
চীন: চীনের শিল্প উৎপাদন, পরিবহন ও জ্বালানি খাতের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ বন্ধ হলে দেশটির অর্থনীতিতে স্বস্তি আসতে পারে।
বাংলাদেশ: বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জ্বালানি আমদানি, ডলার সংকট, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পকারখানার ব্যয়ের সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তেলের দাম কমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে আমদানি ব্যয় কমার সুফল পেতে হলে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, জ্বালানি আমদানির চুক্তি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ।
৮. যুদ্ধ বন্ধ না হলে আবারও বাড়তে পারে তেল ও দ্রব্যমূল্য
সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা এখানেই।
নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়েছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে বাধ্য।
রয়টার্সের ৫ নভেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বহাল থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প চাইলে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যেতে পারেন। আবার রাজনৈতিক চাপের মুখে নিজের শক্তি প্রদর্শনের জন্য সামরিক পদক্ষেপও নিতে পারেন।
দ্বিতীয় পরিস্থিতি তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে আবার তেলের দাম বাড়তে পারে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ বা মারাত্মকভাবে সীমিত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে।
সামনে বিশ্ব অর্থনীতির তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে তিনটি সম্ভাবনা সামনে আসে।
প্রথম পরিস্থিতি—কূটনৈতিক সমাধান: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হলে যুদ্ধের অবসান, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। এতে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির চাপ কমতে পারে।
দ্বিতীয় পরিস্থিতি—দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা: যুদ্ধের বড় ধরনের বিস্তার না হলেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বজায় থাকলে তেলের দাম তুলনামূলক বেশি থাকবে। জাহাজ পরিবহন ও বিমা ব্যয়ও পুরোপুরি কমবে না।
তৃতীয় পরিস্থিতি—নতুন সামরিক সংঘাত: যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে আবার বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হলে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে তেলের দাম, খাদ্যপণ্যের মূল্য এবং বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি আবার বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়কে শুধু একটি রাজনৈতিক পরাজয় হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, বিশ্ববাণিজ্য এবং কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—নির্বাচনের ফলের কারণে তেলের বাজারে যে পতন হয়েছে, সেটি এখনো যুদ্ধের অবসানের প্রতিফলন নয়; বরং যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার প্রতিফলন।
এখন সবার নজর ওয়াশিংটন, তেহরান, তেল আবিব এবং হরমুজ প্রণালির দিকে।
কারণ আগামী দিনগুলোতে এসব জায়গার রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করতে পারে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমবে, নাকি আবারও বাড়বে। আর তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে বিশ্বের সাধারণ মানুষের খাবার, জ্বালানি ও জীবনযাত্রার খরচ।