ব্রিটেন সংবাদ

রাশিয়ার নাশকতার আশঙ্কায় ব্রিটেনের সতর্কতা

রাশিয়ার নাশকতার আশঙ্কায় ব্রিটেনের সতর্কতা

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৯ সেপ্টেম্বর :

ইউক্রেন যুদ্ধের বাইরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার কথিত নাশকতা, সাইবার হামলা ও ড্রোন তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিটেন। ব্রিটিশ সরকারের ভাষ্য, বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনার ওপর ড্রোন, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার মতো একাধিক ঘটনা একসঙ্গে বিবেচনা করলে ইউরোপের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে একটি বিস্তৃত ‘হাইব্রিড’ তৎপরতার চিত্র পাওয়া যায়।

সাম্প্রতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জার্মানির লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা। ব্রিটিশ সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, ৪ আগস্ট গভীর রাতে একটি ড্রোন সামরিক মানের বিস্ফোরক নিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাবেষ্টিত মালামাল পরিবহন এলাকায় প্রবেশ করে। ড্রোনটি বিস্ফোরিত হয়নি। পরে জার্মান সরকার গোয়েন্দা তথ্য ও পুলিশের তদন্তের ভিত্তিতে ঘটনার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে।

লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দর ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহন বিমানবন্দর এবং জার্মানি ও ন্যাটোর সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাতেও এর ব্যবহার রয়েছে। ফলে ঘটনাটি শুধু একটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে না।

ব্রিটেনের ইউরোপীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সাম্প্রতিক বক্তব্যে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনার কাছে ড্রোন দেখা যাওয়া, অগ্নিসংযোগ এবং নাশকতার মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রতিটি আলাদাভাবে এমন পর্যায়ে নাও যেতে পারে, যার জন্য কোনো রাষ্ট্র সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাবে। কিন্তু একাধিক ঘটনা একসঙ্গে বিবেচনা করলে এগুলোকে ইউরোপের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখার কারণ রয়েছে বলে ব্রিটেন মনে করছে।

ব্রিটেন এরই মধ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে। লাইপজিগের ঘটনার পর লন্ডনে রুশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করার কথাও ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে।

তবে ‘হাইব্রিড হামলা’ বলতে সরাসরি যুদ্ধ বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বোঝায় না। ব্রিটিশ সরকারের সংজ্ঞায় এর মধ্যে থাকতে পারে গোপন নাশকতা, গুপ্তচরবৃত্তি, সাইবার হামলা, বিদেশি হস্তক্ষেপ এবং রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করা সহযোগী গোষ্ঠীর তৎপরতা—যেগুলো সরাসরি যুদ্ধের সীমা অতিক্রম না করেও কোনো দেশ বা তার মিত্রদের নিরাপত্তা ও স্বার্থের ক্ষতি করতে পারে।

ব্রিটেন জুলাইয়ে ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি (স্টেট থ্রেটস) অ্যাক্ট ২০২৬’ কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়। এর মাধ্যমে বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে নিরাপত্তাবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী সংগঠন বা গোষ্ঠীকে চিহ্নিত ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। একই সময়ে ব্রিটেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাইবার হামলাকারী ব্যক্তি ও নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে যৌথ নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে।

ব্রিটিশ সরকার আরও জানিয়েছে, পোল্যান্ডের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় একটি ব্যর্থ সাইবার হামলার জন্য রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিসের একটি ইউনিটকে দায়ী করা হয়েছে। ব্রিটিশ ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাটি সফল হলে শীতকালে প্রায় ৫ লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারতেন।

ব্রিটেনের উদ্বেগ শুধু ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নয়। সেপ্টেম্বরের সাম্প্রতিক এক সরকারি বিবৃতিতে ব্রিটেন বলেছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান ইউরোপের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার কথিত বিঘ্নসৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডের ধরনও বদলাচ্ছে।

অর্থাৎ, ইউরোপে এখন যে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার সবকিছুকে ‘রাশিয়ার হামলা’ হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। তবে ব্রিটেন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের বক্তব্য হলো—ড্রোন, সাইবার হামলা, গুপ্তচরবৃত্তি ও নাশকতার একাধিক ঘটনা একসঙ্গে বিবেচনা করলে ঝুঁকির একটি বৃহত্তর চিত্র স্পষ্ট হচ্ছে।

এ কারণে ব্রিটেন ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সাইবার ব্যবস্থা ও সামরিক স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড শনাক্ত ও প্রতিরোধে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।