লন্ডন সংবাদ
লন্ডনের ৪২ শতাংশ টিউব রেললাইন ‘খুব খারাপ’—যাত্রীদের জন্য কতটা ঝুঁকি?
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৯ সেপ্টেম্বর:
লন্ডনের পাতাল রেল বা টিউবের ৪২ শতাংশ রেললাইন ‘খুব খারাপ’ অবস্থায় রয়েছে। আরও ১৭ শতাংশ রেললাইনকে ‘খারাপ’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। ফলে লন্ডনের পুরোনো পাতাল রেলব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে ‘খুব খারাপ’ মানেই এসব রেললাইন যাত্রীদের জন্য সরাসরি বিপজ্জনক—এমনটা বলা ঠিক হবে না। টিএফএল-এর সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক রিচার্ড জোন্স লন্ডন অ্যাসেম্বলির এক বৈঠকে বলেছেন, রেললাইন ‘খুব খারাপ’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হওয়া অনিরাপদ হওয়ার সমার্থক নয়। এর প্রভাব বেশি পড়ে ট্রেন চলাচলের গতি ও পরিষেবার নির্ভরযোগ্যতার ওপর।
সমস্যার মূল জায়গা হলো দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণ ঘাটতি। টিএফএল-এর হিসাবে, লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডের রেলব্যবস্থা ভালো অবস্থায় রাখতে বছরে প্রায় ১ দশমিক ১ থেকে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু ২০২৫–২৬ পর্যন্ত আগের পাঁচ বছরে বছরে গড়ে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করা হয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় নবায়নের বড় অংশ পিছিয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক তথ্য আরও একটি উদ্বেগের বিষয় সামনে এনেছে। রেল ও অন্যান্য অবকাঠামোর অবস্থার অবনতির সঙ্গে সম্পর্কিত টিউবের ঘটনাগুলো ২০১৮–১৯ সালের ৪ হাজার ১৯৫টি থেকে ২০২৩–২৪ সালে বেড়ে ১১ হাজার ৯৪৪টিতে পৌঁছেছে।
যাত্রীদের জন্য কতটা ঝুঁকি?
সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ট্রেনের বিলম্ব, পরিষেবা বন্ধ বা কমে যাওয়া, গতি কমানো এবং হঠাৎ বিঘ্নের মাধ্যমে। কোনো অংশের অবস্থা খারাপ হলে টিএফএল নিরাপত্তার জন্য ট্রেনের গতি কমাতে, অতিরিক্ত পরিদর্শন করতে বা সাময়িকভাবে কোনো অংশ বন্ধ রাখতে পারে। ফলে যাত্রার সময় বেড়ে যেতে পারে।
টিএফএল অবশ্য বলছে, নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যেসব সম্পদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে মেরামত ও নবায়নের কাজ করা হচ্ছে। টিএফএল আরও জানিয়েছে, বর্তমানে নবায়নকাজে বছরে গড়ে প্রায় ৮৬০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
তবে পুরো সমস্যাটি ছোট নয়। লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডের নবায়নকাজের বকেয়া ৫ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। টিএফএল-এর পুরো পরিবহন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে রক্ষণাবেক্ষণ ও নবায়নের ঘাটতি প্রায় ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ড।
অর্থাৎ, লন্ডনের টিউবযাত্রীদের এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কিন্তু পুরোনো রেললাইন ও অন্যান্য অবকাঠামোর ওপর বিনিয়োগের চাপ বাড়ছে। সময়মতো বড় পরিসরে নবায়ন করা না গেলে ভবিষ্যতে বিলম্ব, পরিষেবা বিঘ্ন এবং যাত্রী দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে—এটাই বর্তমান তথ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।