ব্রিটেন সংবাদ
‘ব্রিটিশ’ পরিচয়কে জাতিগত পরিচয় বা গায়ের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত নয়— সাবেক প্রধানমন্ত্রী রিশি সুনাক
লন্ডন, ২০ সেপ্টেম্বর: ব্রিটিশ পরিচয়, জাতিগত পরিচয় ও অভিবাসন নিয়ে নতুন করে বিতর্কের মধ্যে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী রিশি সুনাক বলেছেন, যুক্তরাজ্যে কে ‘ব্রিটিশ’ বা ‘ইংলিশ’—তা গায়ের রঙ দিয়ে নির্ধারণ করা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্যে ব্রিটেনে বসবাসকারী বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জাতীয় পরিচয় নিয়ে চলমান বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।
১৭ সেপ্টেম্বর লন্ডনের লর্ডসে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের ২০২৬ সালের কাউড্রে বক্তৃতায় সুনাক ব্রিটেনের বহুজাতিক ও বহু-ধর্মীয় সমাজ এবং জাতীয় পরিচয় নিয়ে কথা বলেন। পরদিন প্রকাশিত দ্য টাইমস-এর একটি নিবন্ধেও তিনি বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
সুনাকের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল—কেউ অশ্বেতাঙ্গ বা অভিবাসী পরিবারের সন্তান হলেই তাকে ব্রিটিশ বা ইংলিশ পরিচয়ের বাইরে রাখা যায় না। তাঁর নিজের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তিনি একই সঙ্গে ব্রিটিশ, ইংলিশ, ব্রিটিশ এশিয়ান ও ব্রিটিশ হিন্দু পরিচয় বহন করেন।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ব্রিটিশত্বকে যদি গায়ের রঙের সঙ্গে এক করে দেখা শুরু হয়, তাহলে যুক্তরাজ্যে মানুষের মধ্যে আলাদা শ্রেণির নাগরিকত্বের ধারণা তৈরি হতে পারে। দ্য টাইমস-এ তিনি এই প্রবণতাকে ব্যঙ্গ করে ‘ডিএনএ পরীক্ষা’ দিয়ে ব্রিটিশত্ব নির্ধারণের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
বিষয়টি সুনাকের জন্য ব্যক্তিগতও। তিনি বলেছেন, ছোটবেলায় সাউদাম্পটনে বর্ণবাদী আচরণের অভিজ্ঞতা তাঁর স্মৃতিতে রয়েছে। তবে তাঁর মতে, ব্রিটেনে বহু-জাতিগোষ্ঠীর গণতন্ত্র গড়ে উঠেছে এবং সেটিকে ধরে রাখতে হলে জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে গায়ের রঙকে এক করে দেখা এড়িয়ে চলতে হবে।
সুনাক একই বক্তৃতায় অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও সমাজে একীভূত হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন। অর্থাৎ তাঁর বক্তব্য শুধু পরিচয়ের প্রশ্নে নয়; তিনি অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় মূল্যবোধ এবং সমাজে সবার অংশগ্রহণ—এই বিষয়গুলোকেও একই আলোচনার অংশ করেছেন।
ব্রিটিশ পরিচয় নিয়ে বিতর্কটি অবশ্য শুধু সুনাকের বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়। চলতি সেপ্টেম্বরেই ব্রিটিশ ফিউচারের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে বর্ণ ও জাতীয়তা নিয়ে বৈষম্য সম্পর্কে উদ্বেগ রয়েছে। গবেষণায় প্রায় অর্ধেক সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর উত্তরদাতা গত এক বছরে বর্ণ বা জাতীয়তাভিত্তিক পূর্বধারণার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
এই বিতর্ক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জন্যও প্রাসঙ্গিক। যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া বা দীর্ঘদিন বসবাস করা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের ক্ষেত্রে জাতিগত শিকড়, ধর্মীয় পরিচয় এবং ব্রিটিশ নাগরিক বা জাতীয় পরিচয়—এই একাধিক পরিচয় কীভাবে পাশাপাশি অবস্থান করে, সেই বৃহত্তর প্রশ্নটি এখানে সামনে আসে।