“ইরান আমাদের ব্ল্যাকমেইল করতে পারবে না”: ট্রাম্প

“ইরান আমাদের ব্ল্যাকমেইল করতে পারবে না”: ট্রাম্প

ভয়েস অব পিপল | বিশ্ব সংবাদ ডেস্ক, ১৮ এপ্রিল

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের সামরিক তৎপরতা ও জাহাজে হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, “ইরান কখনোই আমাদের ব্ল্যাকমেইল করতে পারবে না।”

শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত বন্দর অবরোধের জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। এরপরই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর দুটি নৌযান ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি কার্গো জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একটি তেলবাহী জাহাজ গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দুই জাহাজের কোনো নাবিক হতাহত হননি।

হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রণালী বন্ধ করার চেষ্টা করে আসছে, তবে তারা ভয় দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কোনো কিছু আদায় করতে পারবে না। ইরানের আচরণকে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, দেশটি গত কয়েক দশক ধরে একই ধরনের “চালাকি” করে আসছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, উত্তেজনা সত্ত্বেও তেহরানের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা “খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে” এবং শিগগিরই একটি স্থায়ী সমঝোতা হতে পারে।

এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত আরোপ করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা খরচ পরিশোধকারী জাহাজগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হবে। যারা এই খরচ দেবে না, তাদের যাত্রা বিলম্বিত হতে পারে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ না হওয়া এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে।

ঘটনাটিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও দ্রুত আসতে শুরু করেছে। ভারত সরকার হরমুজ প্রণালীতে তাদের পতাকাবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে এ বিষয়ে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। মার্কিন প্রশাসন ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তেলবাহী জাহাজগুলোতে অভিযান চালিয়ে সেগুলো তল্লাশি বা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে তেহরানকে প্রণালী পুনরায় খুলতে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ছাড় দিতে বাধ্য করা।

একই সময়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তেও। ইসরায়েল দাবি করেছে, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় তারা লেবাননে একটি হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের সেনাদের জন্য হুমকি তৈরি করা একটি সশস্ত্র দলকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের “নিষ্ক্রিয়” করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি ওমান উপকূলের কাছে হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় একটি কনটেইনার জাহাজ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা। এতে কোনো অগ্নিকাণ্ড বা বড় ধরনের পরিবেশগত ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে এই ধারাবাহিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।