ইউরোপে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হচ্ছে: ছয় সপ্তাহেই থমকে যেতে পারে বিমান চলাচল

ইউরোপে জ্বালানি সংকট  তীব্রতর হচ্ছে: ছয় সপ্তাহেই থমকে যেতে পারে বিমান চলাচল

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১৮ এপ্রিল: 

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ইউরোপের আকাশপথে। তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায় মহাদেশটির বিমান খাত এখন এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (IEA) প্রধান ফাতিহ বিরল সতর্ক করে জানিয়েছেন, ইউরোপে উড়োজাহাজের জ্বালানি—জেট ফুয়েল—বর্তমান মজুত অনুযায়ী বড়জোর আর ছয় সপ্তাহ চলতে পারে। এর পর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে পারে, যেখানে এক শহর থেকে আরেক শহরে নিয়মিত ফ্লাইট চালানোই কঠিন হয়ে উঠবে।

তিনি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এপ্রিলের শেষ কিংবা মে মাসের শুরুতেই ইউরোপে জেট ফুয়েল ও ডিজেলের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। এখন সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে।

সংকটের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে—যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ইউরোপের ওপর। বিরলের ভাষায়, পরিস্থিতি এখন “ভয়াবহ” এবং এটি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়বে।

এদিকে শুধু জ্বালানির ঘাটতি নয়, এর দামও হু হু করে বাড়ছে। ফলে অনেক এয়ারলাইনস ইতিমধ্যে কম লাভজনক রুটে ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে বা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে যাত্রী ভোগান্তির পাশাপাশি বাণিজ্য ও পর্যটন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এর আগে ইউরোপের বিমানবন্দরগুলোর সংগঠন ACI Europe সতর্ক করেছিল, পরিস্থিতি আরও দ্রুত অবনতি হতে পারে—তাদের হিসাব অনুযায়ী, মহাদেশটি এমন সংকট থেকে মাত্র তিন সপ্তাহ দূরে ছিল। যদিও IEA-এর পূর্বাভাস তুলনামূলক কিছুটা সময় দিচ্ছে, তবুও সামগ্রিক চিত্র মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট কেবল বিমান চলাচলে সীমাবদ্ধ থাকবে না। জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে পেট্রল, গ্যাস এবং বিদ্যুতের দাম আরও বাড়তে পারে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।

সব মিলিয়ে, ইউরোপ এখন এমন এক জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি, যার প্রভাব আকাশ থেকে নেমে আসতে পারে প্রতিটি ঘরে।