বাংলাদেশের খবর

ড. ইউনূস সরকারের সময়ে বছরে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে : টিআইবি

ড. ইউনূস সরকারের সময়ে বছরে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেন হয়েছে : টিআইবি

বাংলাদেশ প্রতিনিধি: বাংলাদেশে সরকারি ও বিভিন্ন সেবাখাতে দুর্নীতি এবং ঘুষের চাপ আগের তুলনায় আরও বেড়েছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে দেশে ঘুষ লেনদেনের আনুমানিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকারও বেশি, যা দুই বছর আগের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তাদের ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’-এর ফলাফল প্রকাশ করে। দেশের আট বিভাগের শহর ও গ্রামের ১৫ হাজার ৭১৫টি পরিবারের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এ জরিপ পরিচালিত হয়।

জরিপে উঠে এসেছে, অন্তত একটি সেবা খাতে প্রতি পাঁচটি পরিবারের চারটিরও বেশি কোনো না কোনো ধরনের দুর্নীতির মুখোমুখি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পরিবারকে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে ঘুষ বা নিয়মবহির্ভূত অর্থ দিতে হয়েছে।

যদিও পরিবারপ্রতি গড় ঘুষের অঙ্ক কিছুটা কমেছে, তবে স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও শিক্ষা খাতে ঘুষের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে হাসপাতালের টিকিট সংগ্রহ, কৃষকদের সার পাওয়া এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ আগের তুলনায় অনেক বেশি দেখা গেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একটি পরিবার বছরে গড়ে নিজেদের মোট আয়ের প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ শুধু ঘুষ দিতেই ব্যয় করেছে। দরিদ্র পরিবারের ক্ষেত্রে এই চাপ আরও বেশি; সবচেয়ে দুর্নীতিপ্রবণ খাতগুলোতে তাদের আয়ের প্রায় ৫ শতাংশেরও বেশি ঘুষের পেছনে চলে গেছে। এমনকি কিছু পরিবারের ঘুষের ব্যয় তাদের বার্ষিক আয়েরও কয়েক গুণ ছাড়িয়ে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতির সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষকে। তাঁর মতে, দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, এটি সামাজিক বৈষম্যও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জরিপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষের ধারণা, দুর্নীতির কার্যকর প্রতিকার হচ্ছে না। যদিও অনেকেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নাম জানেন, অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে মানুষের অংশগ্রহণ অত্যন্ত কম। এটি প্রতিষ্ঠানটির প্রতি জনআস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

টিআইবির মতে, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নেতৃত্ব, স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা এবং জনগণের আস্থা পুনর্গঠন এখন সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।