দেশে হামে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে: ৫০ দিনে ৩১১ শিশু প্রাণ হারাল

দেশে হামে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে: ৫০ দিনে ৩১১ শিশু প্রাণ হারাল

বাংলাদেশ প্রতিনিধি:

দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ ও এর উপসর্গজনিত জটিলতায় মৃত্যু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যু সরাসরি হামে এবং বাকি ১৫ জনের শরীরে ছিল হামের উপসর্গ। এতে গত ৫০ দিনে দেশে হামে ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১১ জনে।

এই তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, যা সোমবার এক নিয়মিত প্রতিবেদনে পরিস্থিতির সর্বশেষ চিত্র তুলে ধরে।

ঢাকা বিভাগেই সর্বোচ্চ মৃত্যু ও সংক্রমণ

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৭ শিশুর মধ্যে ১২ জনই ঢাকা বিভাগের, আর বাকি ৫ জন চট্টগ্রাম বিভাগের। আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই উচ্চ হার বিশেষ করে রাজধানী ও এর আশপাশের অঞ্চলে স্বাস্থ্যঝুঁকির গভীরতা আরও স্পষ্ট করছে।

হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১ হাজার ৩০২ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা বিভাগেই ভর্তি হয়েছে ৬১৮ জন, চট্টগ্রামে ১৯২ জন, রাজশাহীতে ১৬৮ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১৩৩ জন শিশু।

হাসপাতালে চাপ বাড়ছে, ছাড়পত্রও মিলছে

একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৬১ জন শিশু হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে নতুন রোগী ভর্তির হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।

এ পর্যন্ত দেশে হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ২৮ হাজার ৮৪২ জন শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৫ হাজার ১৫১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত শুধু ঢাকা বিভাগেই হামের লক্ষণ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৭ জনে। রাজশাহী বিভাগে মারা গেছে ৭০ জন শিশু।

ঢাকা মেডিকেলে ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণ

ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামাল দিতে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নতুন একটি ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালটির শহীদ মিলন মিলনায়তনের পাশে ২০ শয্যার এই অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে হামের রোগীসহ ডেঙ্গু রোগীদেরও চিকিৎসা দেওয়া হবে।

সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন,
“স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ফিল্ড হাসপাতালটি নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্দেশ পেলেই এটি পুরোপুরি চালু করা হবে।”

তিনি আরও জানান, এখানে এসি ও নন-এসি বেডের ব্যবস্থা থাকবে। সেনাবাহিনী অবকাঠামো নির্মাণে সহায়তা দিলেও চিকিৎসা সেবা দেবেন ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকরা।

পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া এবং একসঙ্গে এত সংখ্যক শিশুর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে প্রতিরোধমূলক টিকা গ্রহণ, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা না থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোকে জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।