‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’
স্কটল্যান্ডের ফেরিঘাটে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে ১৫ জন গ্রেপ্তার
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৮ অক্টোবর :
স্কটল্যান্ডের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দুটি ফেরিঘাটে সংগঠিত অভিবাসন অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযানে এ মাসে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুই সপ্তাহ ধরে চলা এ অভিযানে ৩৪০ জনের সঙ্গে কথা বলেছেন কর্মকর্তারা। এ সময় অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধের পাশাপাশি মাদক ও সড়ক আইন লঙ্ঘনের ঘটনাও শনাক্ত হয়েছে।
পুলিশ স্কটল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, অপারেশন লকস্ট্রিম নামের এ অভিযান চালানো হয় ডামফ্রিস অ্যান্ড গ্যালোওয়ে এলাকার লক রায়ান ও কেয়ার্নরায়ান ফেরিঘাটে। যুক্তরাজ্যের সড়ক, রেল ও বন্দর ব্যবহার করে সংঘটিত সংগঠিত অভিবাসন অপরাধের নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও ব্যাহত করাই ছিল অভিযানের মূল লক্ষ্য।
অভিবাসন-সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ১৫ জনের বয়স ২০ থেকে ৫৪ বছরের মধ্যে। এ ছাড়া অভিবাসন কার্যক্রমে সহায়তা করার অভিযোগে ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।
অভিযান চলাকালে মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে চারজনকে পুলিশি সতর্কবার্তা দেওয়া হয় এবং সড়ক আইন লঙ্ঘনের ১১টি ঘটনা শনাক্ত করা হয়। পৃথক ঘটনায় ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে মাদক-সংক্রান্ত অপরাধে গ্রেপ্তার করে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার কাছ থেকে আনুমানিক ৯৫০ পাউন্ড মূল্যের মাদক, নগদ অর্থ এবং একটি আক্রমণাত্মক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। ওই ব্যক্তির আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল স্ট্রানরেয়ার শেরিফ আদালতে।
অভিযানটি পরিচালনায় পুলিশ স্কটল্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছে ন্যাশনাল পুলিশ চিফস কাউন্সিল, হোম অফিসের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট, রাজস্ব ও শুল্ক বিভাগ, মেধাস্বত্ব দপ্তর এবং স্কটল্যান্ডের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা।
পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা ডিটেকটিভ সুপারিনটেনডেন্ট স্টিভেন বার্ট্রাম বলেন, সংগঠিত অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা মানুষ, পণ্য ও সম্পদ পরিবহনের জন্য সড়ক, রেলপথ ও বন্দর ব্যবহার করতে পারে। এসব পথের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করে। সমন্বিত অভিযান এ ধরনের তৎপরতা কমাতে এবং অপরাধী চক্রের কার্যক্রম ব্যাহত করতে সহায়তা করছে।
স্কটল্যান্ড সরকারের বিচারবিষয়ক মন্ত্রী নিল গ্রে অভিযানের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো অপরাধী চক্রের শোষণের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাদের সুরক্ষা দেওয়া।
যুক্তরাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তা ও আশ্রয়বিষয়ক মন্ত্রী আনা টার্লি বলেছেন, মানুষ পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সরকারের দাবি, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গ্রেপ্তার, দণ্ডাদেশ ও জব্দের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে মানুষ পাচার-সংশ্লিষ্ট ছয় হাজার পাঁচশর বেশি কর্মকাণ্ড ব্যাহত করা হয়েছে।