তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল
বাংলাদেশিদের সমকামী পরিচয়ে ভুয়া আশ্রয় আবেদনের অভিযোগ: লন্ডনে গ্রেপ্তার ৩, যাচাই চলছে শতাধিক আবেদন
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৮ অক্টোবর :
যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পাওয়ার জন্য সমকামী পরিচয়ের মিথ্যা দাবি এবং জাল প্রমাণ তৈরির অভিযোগে লন্ডনে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে হোম অফিস। তদন্তকারীদের সন্দেহ, একটি চক্র বাংলাদেশি পুরুষসহ আশ্রয়প্রার্থীদের কাছ থেকে হাজার হাজার পাউন্ড নিয়ে সাজানো ছবি, ভুয়া চিঠি ও অন্যান্য নথি তৈরি করে দিত। চক্রটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে ১০০টির বেশি আশ্রয় আবেদন যাচাই করা হচ্ছে।
বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অভিবাসনসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনকে প্রতারণা ও অভিবাসনসংক্রান্ত অপরাধের সন্দেহে এবং অন্য একজনকে যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে অবস্থানের সন্দেহে আটক করা হয়। অভিযানে মোবাইল ফোন, গয়না ও নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
হাজার হাজার পাউন্ডে জাল প্রমাণ তৈরির অভিযোগ
তদন্তকারীদের অভিযোগ, আশ্রয় আবেদনের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করার জন্য সমকামী পরিচয়ের সাজানো ছবি, কথিত সম্পর্কের চিঠি এবং বিভিন্ন সংগঠনের সমর্থনপত্র তৈরি করে দেওয়া হতো। এ ধরনের সহায়তার বিনিময়ে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
হোম অফিসের অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তা ক্রিস ফস্টার জানান, আশ্রয় আবেদনের মধ্যে সন্দেহজনক মিল খুঁজে পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। এরপর কয়েক মাস ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে সন্দেহভাজন নেটওয়ার্কের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
হোয়াইটচ্যাপেলের সংগঠনের নাম ঘিরে প্রশ্ন
বিবিসির প্রতিবেদনে পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলভিত্তিক বাংলাদেশি এলজিবিটি কমিউনিটি সংগঠন আপনজনের নাম এসেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সংগঠনটির নাম ব্যবহার করে কিছু আশ্রয় আবেদনের সমর্থনে চিঠি ও অন্যান্য প্রমাণ তৈরির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু আবেদনকারী প্রথমে রাজনৈতিক কারণে আশ্রয় চেয়েছিলেন। সেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তাঁরা সমকামী পরিচয়ের ভিত্তিতে নতুন দাবি উত্থাপন করেন বলে হোম অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তের বিষয়। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বক্তব্য এবং তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকারও গুরুত্বপূর্ণ
এই ঘটনা ব্রিটেনের আশ্রয় আবেদন যাচাইব্যবস্থা এবং অভিবাসন পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে জাল প্রমাণ তৈরির অভিযোগের কারণে প্রকৃত নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের আশ্রয় চাওয়ার অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয়।
সমকামী পরিচয়ের কারণে নিজ দেশে নির্যাতনের আশঙ্কা থাকলে একজন ব্যক্তি যুক্তরাজ্যে আশ্রয় চাইতে পারেন। তাঁর আবেদন বাস্তব পরিস্থিতি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও প্রযোজ্য আইনের ভিত্তিতে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করতে হয়।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্যও এ ঘটনা একটি সতর্কবার্তা। আশ্রয় পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়ার নামে কেউ যদি সাজানো গল্প, জাল চিঠি বা মিথ্যা প্রমাণ তৈরির প্রস্তাব দেন, তাহলে তাতে জড়িয়ে পড়লে গুরুতর আইনি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অভিবাসনসংক্রান্ত পরামর্শ নেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য ও অনুমোদিত পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া এবং আবেদনে সত্য তথ্য দেওয়াই নিরাপদ পথ।