বাংলাদেশ সংবাদ
‘দুইটা-পাঁচটা মার্ডার’ হলেও দায়ভার নিতে রাজি চেয়ারম্যান রফিকুল !
বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ২৩ সেপ্টেম্বর :
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মোল্লার একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে সমর্থকদের অস্ত্র তৈরির নির্দেশ এবং সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটলে তার দায় নেওয়ার কথা বলতে শোনা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি উপজেলার উজিরপুর বাজারে একটি সভায় ওই বক্তব্য দেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে চেয়ারম্যানকে বলতে শোনা যায়, যার যার অস্ত্র তৈরি করতে হবে। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি নেতৃত্বের অধীনে দুই থেকে পাঁচটি হত্যাকাণ্ড ঘটলেও তার দায়ভার নেওয়ার কথা বলেন বলে ভিডিওতে শোনা যায়। সমর্থকদের নিজ নিজ এলাকায় প্রস্তুত থাকার কথাও বলতে শোনা যায় তাকে। ভিডিওতে তিনি আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ‘অস্ত্র বানান, ২ডা মার্ডার হোক আর ৫ডা মার্ডার হোক ঐ দায়ভার আমার, ওটা হলে আমি দেখব’’।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
তবে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি সম্পাদনা করা হয়েছে এবং তিনি এমন বক্তব্য দেননি। সামনে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দলের এক ভ্যানচালককে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে ভ্যানটি রেখে দিয়েছে। তিনি চাইলে দলীয় লোকজন নিয়ে সেটি উদ্ধার করতে পারতেন, কিন্তু তা না করে পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছেন। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে তিনি কাজ করছেন বলেও দাবি করেন।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবলুর রহমান খান বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। চেয়ারম্যান সম্প্রতি এমন কোনো বক্তব্য দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন জানিয়েছেন, ভিডিওর বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া এবং পরবর্তী সময়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।