২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এনডিটিভিকে দেওয়া এক ফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা
ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার, জেলে যেতেও প্রস্তুত
নিজস্ব প্রতিবেদক, ২২ সেপ্টেম্বর:
বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে আবারও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে এবং কারাগারে যেতেও প্রস্তুত রয়েছেন।
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ এনডিটিভির বিদেশবিষয়ক সম্পাদক আদিত্য রাজ কৌলকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশে ফেরার প্রশ্ন এখন ‘ফিরবেন কি না’—এটি নয়; বরং কীভাবে এমনভাবে ফিরবেন, যাতে দেশের মানুষ ও দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, তিনি বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে এবং আইনের কাঠামোর মধ্যেই ফিরতে চান। তবে কীভাবে বা ঠিক কোন প্রক্রিয়ায় তিনি দেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি। একই সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশ বা ভারতের সরকারের সঙ্গে তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে কোনো সরকারি বা গোপন যোগাযোগের বিস্তারিতও জানাননি।
দেশে ফিরে সম্ভাব্য কারাবাসের বিষয়েও সরাসরি মন্তব্য করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া এবং বাংলাদেশের মানুষের সেবা করার জন্য যদি কারাগারে যেতে হয়, সেই পরিণতির মুখোমুখি হতেও তিনি প্রস্তুত।
তবে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। হাসিনার দাবি, ওই রায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অন্যায্য। তিনি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার কাছে তাঁর মামলায় আইনের ন্যায্য প্রয়োগ এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাঁর অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা চেয়েছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বিচার চলাকালে ‘পূর্ণ আইনি সুরক্ষা’র দাবি জানিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়েও একই সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন শেখ হাসিনা। তিনি জানান, দলটির সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠন এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। তিনি নিজেকে এই পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার অংশ হিসেবে দেখছেন বলেও জানান।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের লক্ষ্য বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং সব বাংলাদেশির অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করা। একই সঙ্গে তিনি তাঁর বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণের কথাও বলেন।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশে সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর হুমকিকে গুরুতর বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের নেটওয়ার্ক কোনো একটি দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বিচ্ছিন্নতা নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য কার্যকর সমাধান নয়। এগুলো অবশ্য শেখ হাসিনার নিজস্ব বক্তব্য ও মূল্যায়ন।
শেখ হাসিনার সর্বশেষ বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তিনি এবারও ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার সময়সীমা উল্লেখ করেছেন, কিন্তু কীভাবে ফিরবেন, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত ব্যবস্থা জানাননি। ফলে তাঁর ঘোষণা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রত্যাবর্তনের বাস্তব প্রক্রিয়া এখনো অনির্দিষ্ট।
এর আগে যা বলেছিলেন হাসিনা ?
এর আগে ২৯ জুন ২০২৬ এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তিনি ওই বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরবেন। পরে ১০ জুলাই রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। জুলাইয়ের বক্তব্যে তিনি দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার বা এমনকি প্রাণহানির আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেছিলেন।
তবে আজকের ২২ সেপ্টেম্বরের এনডিটিভি সাক্ষাৎকারে নতুন করে তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে ফেরার অঙ্গীকার, সম্ভাব্য কারাবাস মেনে নেওয়ার প্রস্তুতি, বিচারপ্রক্রিয়ায় আইনি সুরক্ষার দাবি এবং আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনে তাঁর ভূমিকার কথা বিস্তারিত জানিয়েছেন। এনডিটিভি একই দিনে এ বিষয়ে একটি চার মিনিটের ভিডিও সাক্ষাৎকারও প্রকাশ করেছে।