‘‘দেশ থেকে দেশান্তরে, ভয়েস অব পিপল সবার ঘরে’’
নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা, আগেও হয়েছিল হামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, ১৬ অক্টোবর :
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির নামে এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের তেলুঞ্জিয়া-উতরাইল বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলিফ বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। এর আগে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বরও দুর্বৃত্তদের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে বাজারের একটি চায়ের দোকানে ছিলেন আলিফ। এ সময় দুই যুবক সেখানে এসে সিগারেট চায়। এরপর তারা তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। কিছু দূরে রাখা একটি মোটরসাইকেলে চড়ে তারা সরে পড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে।
গুলিবিদ্ধ আলিফকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমদ খান জানান, নিহতের মাথা, গলা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলামও ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ। হত্যার কারণ ও হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আলিফ সাংবাদিকতার পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে স্থানীয় বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখি করতেন তিনি। তাঁর গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দুপুরে সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। ওই হামলার সঙ্গে বৃহস্পতিবারের হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তবে আগের হামলার ঘটনা সাংবাদিকের নিরাপত্তা এবং তাঁর ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
হত্যার উদ্দেশ্য, হামলাকারীদের পরিচয় এবং আগের হামলার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক আছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্তের অগ্রগতি ও পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ভিত্তিতেই এসব বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।