ইসরাইল সেনাবাহিনীতে নজিরবিহীন সংকট: একযোগে ৬০০ কর্মকর্তার পদত্যাগপত্র

ডেস্ক রিপোর্ট, ১১ ডিসেম্বর : ইসরাইলের সেনাবাহিনীতে অভূতপূর্ব অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বহু বছর ধরে চলমান একটি বিশেষ আর্থিক সুবিধা হঠাৎ স্থগিত করে দেয়ার সিদ্ধান্তে একযোগে প্রায় ৬০০ কর্মকর্তা ও নন-কমিশন্ড অফিসার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। দেশটির সামরিক কাঠামোতে একে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সংকট হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইসরাইল হায়োম জানায়, ‘চিফ অব স্টাফ ইনক্রিজ’ নামে পরিচিত এই আর্থিক সুবিধাটি দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সেনাসদস্যদের দেওয়া হচ্ছিল। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট সুবিধাটি স্থগিত করে দেয়। কোর্টের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই সেনা কর্মকর্তারা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সামরিক বাহিনীর ভেতর চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
কারণ ও প্রেক্ষাপট
সূত্র অনুযায়ী, পদত্যাগ করা কর্মকর্তাদের বেশিরভাগের বয়স ৪২ বছরের বেশি। তারা মাস শেষ হওয়ার আগেই বাহিনী ছাড়তে চাইছেন, কারণ এরপর থেকেই আর্থিক সুবিধা স্থগিতের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে এবং তারা কোনো আইনি সুরক্ষা পাবেন না।
২০২৩ সালের জুনে ইসরাইলের অর্থ মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সুবিধা পুনর্বহালের বিষয়ে একটি সমঝোতা হলেও নেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটিতে তা আটকে যায়। বিশেষ করে এমপি আমিত হালেভির আপত্তির কারণে বিষয়টি ঝুলে আছে। বহু বছর ধরে সেনাদের আনুগত্য ধরে রাখতে অর্থনৈতিক সুবিধাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই কৌশল উল্টো প্রতিক্রিয়ায় রূপ নিয়েছে।
যুদ্ধের মধ্যে কর্মীসংকট
গাজায় চলমান যুদ্ধের চাপের মধ্যেই এত সংখ্যক কর্মকর্তা পদত্যাগ করায় সেনাবাহিনীর কার্যক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর্মীসংকটের কারণে সামরিক নেতৃত্ব প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাইলেও আদালতের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় এখন তারাই দ্রুত সমাধানের জন্য লবিং শুরু করেছে।
সরকারের জরুরি আলোচনার সম্ভাবনা
ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মুখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইস্যুটি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য শীর্ষ নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেনাবাহিনীর মনোবল ও আনুগত্যে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
ইসরাইলি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট যদি দ্রুত সমাধান না করা হয়, তবে দখলদার বাহিনীর মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম এবং সামগ্রিক সামরিক নীতি উভয়ই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।