ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
আগামী সপ্তাহে ঢাকায় আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ প্রতিষ্ঠানের ৪৮জন উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল
বাংলাদেশ প্রতিনিধি, ১ আগস্ট:
বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে আসছেন। সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, এই সফর বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন গতি আনবে।
শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সফররত প্রতিনিধিদল সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং ব্যবসায়িক মহলের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও তাদের সাক্ষাতের পরিকল্পনা রয়েছে।

মাহ্দী আমিন জানান, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের বিভিন্ন নীতি ও সংস্কারমূলক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার বিষয়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন করেছে। এছাড়া মার্কিন ভ্রমণ নির্দেশিকার বর্তমান অবস্থানও বিদেশি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় উৎসাহিত করবে বলে সরকারের বিশ্বাস।
এদিকে একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদেরও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা, কর ও শুল্ক ব্যবস্থার সংস্কার, অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং বন্দর ব্যবস্থাপনা আধুনিক করার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে চট্টগ্রাম বন্দর, ঢাকা বিমানবন্দরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখপাত্র।
সরকারের প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফরের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত হবে।