ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি
ব্রিটেনের হাই স্ট্রিটে ধাক্কা: ১৩২টি বেটিং শপ বন্ধ, চাকরি হারাচ্ছেন ৬০০ কর্মী
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ১ আগস্ট: ব্রিটেনের অন্যতম বৃহৎ বুকমেকার প্রতিষ্ঠান বেটফ্রেড (Betfred) আগামী সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে ১৩২টি শাখা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে অন্তত ৬০০ কর্মী চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক পরামর্শ (Consultation) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে বেটফ্রেডের মোট শাখার ১০ শতাংশেরও বেশি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপ এবং কর বৃদ্ধির কারণে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে তারা।
কেন বন্ধ হচ্ছে এতগুলো শাখা?
বেটফ্রেডের প্রধান নির্বাহী জো হুইটেকার জানান, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে শাখাগুলো চালু রাখার চেষ্টা করেছে। তবে নিয়োগকর্তার ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স অবদান বৃদ্ধি, মজুরি ব্যয় বৃদ্ধি, জুয়া খাতে কর বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ব্যবসাকে কঠিন অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে। ফলে ১৩০টির বেশি শাখা বন্ধের প্রস্তাব দিতে হয়েছে।
শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল বেটফ্রেডের সমস্যা নয়; বরং ব্রিটেনের ঐতিহ্যবাহী হাই স্ট্রিট ব্যবসার পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিফলন। অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্মের দ্রুত বিস্তার, পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি এবং করের চাপের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের শারীরিক শাখা কমিয়ে আনছে।
বিশেষ করে ছোট শহর ও টাউন সেন্টারগুলোতে এসব শাখা বন্ধ হলে স্থানীয় অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সরকারের নীতিও আলোচনায়
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বাজেটে জুয়া খাতে কর ও লেভি বাড়ানো হয়েছিল। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সরকার এই খাতে আরও কঠোর রাজস্বনীতি গ্রহণ করতে পারে—এমন আশঙ্কাও শিল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে রয়েছে।
বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য কী বার্তা?
ব্রিটেনে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের একটি অংশ খুচরা ব্যবসা, সেবা খাত ও হাই স্ট্রিটভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তাই বড় প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক শাখা বন্ধ হওয়ার ঘটনা সামগ্রিক কর্মসংস্থান বাজারের জন্যও একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে নতুন চাকরি পাওয়া কঠিন হতে পারে এবং বিদ্যমান কর্মীদের ওপরও চাপ বাড়তে পারে।
ভয়েস অব পিপল এর বিশ্লেষণ
বেটফ্রেডের ১৩২টি শাখা বন্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত দেখিয়ে দিল, উচ্চ কর, পরিচালন ব্যয় এবং পরিবর্তিত ভোক্তা আচরণের যুগে ব্রিটেনের হাই স্ট্রিট ব্যবসা নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি। ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তারের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারলে ভবিষ্যতে আরও অনেক পরিচিত ব্র্যান্ডকেও একই ধরনের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।