তথ্যনির্ভর ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের জন্য—ভয়েস অব পিপল
বিলিংসগেট কেলেংকারি: ৬০০ কেজি কোকেন পাচারের পরিকল্পনা ভেস্তে দিল পুলিশ, চারজনের ৭০ বছরের কারাদণ্ড
ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৭ সেপ্টেম্বর : দক্ষিণ আমেরিকা থেকে হিমায়িত মাছের চালানে লুকিয়ে প্রায় ৬০০ কেজি কোকেন যুক্তরাজ্যে আনার পরিকল্পনা করেছিল একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। লন্ডনের বিখ্যাত বিলিংসগেট মার্কেটের একটি বৈধ মাছের ব্যবসাকে ব্যবহার করে ওই চালান গ্রহণের পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে পুলিশি তদন্তে পরিকল্পনাটি ভেস্তে যায় এবং চক্রটির চার সদস্যকে মোট ৭০ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে হিমায়িত মাছের চালানের মধ্যে প্রায় ৬০০ কেজি কোকেন লুকিয়ে যুক্তরাজ্যে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর সম্ভাব্য যুক্তরাজ্য বাজারমূল্য ছিল ২ কোটি পাউন্ডের বেশি।
এই পরিকল্পনাকে তদন্তকারীরা ‘ফিশ কনস্পিরেসি’ নামে চিহ্নিত করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্কট আনউইনের বৈধ মাছের ব্যবসার মাধ্যমে বিলিংসগেট মার্কেটে চালানটি গ্রহণ করার কথা ছিল। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোকেনের চালানটি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে আসেনি। পুলিশি তদন্তের কারণেই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই ভেস্তে যায়।
এ মামলায় স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউন কোর্টে চারজনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। স্পেনের আলিকান্তের ৫৭ বছর বয়সী স্যামুয়েল টোকেলি এবং দুবাইয়ের ৬৩ বছর বয়সী নিকোলাস শিলিংকে ২২ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসেক্সের উইকফোর্ডের ৫১ বছর বয়সী স্কট রিচার্ডসকে ১৪ বছর ছয় মাস এবং ড্যাগেনহামের ৫২ বছর বয়সী স্কট আনউইনকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে মূল মামলায় ক্লাস-এ মাদক আমদানির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রিচার্ডস ও আনউইনের বিরুদ্ধে অপরাধলব্ধ সম্পত্তি অর্জনের ষড়যন্ত্র এবং টোকেলি ও রিচার্ডসের বিরুদ্ধে ক্লাস-বি মাদক আমদানি ও সরবরাহের পৃথক অভিযোগেও সাজা হয়েছে।
মেট পুলিশের তদন্ত শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে এনক্রোচ্যাট নামের এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের তথ্য পাওয়ার পর। তদন্তকারীরা বার্তা, মোবাইল ফোনের তথ্য, নজরদারি এবং অন্যান্য গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করেন। এসব যোগাযোগে কোকেন, কেটামিন, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে আলোচনা এবং বৈধ ব্যবসা ও পরিবহন ব্যবস্থাকে অপরাধমূলক কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া যায়।
২০২৩ সালের আগস্টে রিচার্ডস ও আনউইনকে যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে স্পেনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টোকেলি ও শিলিংকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। টোকেলি মার্চে দোষ স্বীকার করেন; অন্য তিনজনের বিচার শেষে মে মাসে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
তদন্তে কেটামিন পাচারের আরও কয়েকটি পরিকল্পনাও সামনে আসে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটি ইউরোপ থেকে বিপুল পরিমাণ কেটামিন সংগ্রহ করে যুক্তরাজ্যে এনে পাইকারি বাজারে সরবরাহের পরিকল্পনাও করেছিল।
মেট পুলিশের বিশেষ অপরাধ শাখার গোয়েন্দা কর্মকর্তা ডিন গ্রাফটন বলেন, চক্রটি শিল্প পর্যায়ে অপরাধ পরিচালনা করছিল এবং এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ তাদের পুলিশের নজর এড়িয়ে যেতে সাহায্য করবে বলে তারা মনে করেছিল। কিন্তু এনক্রোচ্যাটের তথ্য বিশ্লেষণ ও জাতীয় অপরাধ সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
বিলিংসগেট মার্কেটকে ব্যবহার করার পরিকল্পনাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অপরাধী চক্রটি একটি বৈধ ব্যবসা ও স্বাভাবিক বাণিজ্যিক সরবরাহ ব্যবস্থার আড়ালে বিপুল পরিমাণ মাদক আনার চেষ্টা করেছিল। তবে পুলিশ বলছে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই তদন্তের মাধ্যমে তা শনাক্ত করা হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো—৬০০ কেজি কোকেন লন্ডনে পৌঁছায়নি। এটি ছিল পাচারের একটি পরিকল্পনা, যা পুলিশ ভেস্তে দিয়েছে। ফলে ঘটনাটিকে ‘বিলিংসগেট মার্কেটে ৬০০ কেজি কোকেন উদ্ধার’ হিসেবে বর্ণনা করা সঠিক হবে না।