ভয়েস অব পিপল ।। জনগণের কণ্ঠস্বর, বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি

ইইউর নতুন সীমান্ত ব্যবস্থা স্থগিতের দাবি, গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে ভ্রমণকারীদের দুর্ভোগের আশঙ্কা

ইইউর নতুন সীমান্ত ব্যবস্থা স্থগিতের দাবি, গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে ভ্রমণকারীদের দুর্ভোগের আশঙ্কা

ভয়েস অব পিপল রিপোর্ট, ২৫ জুলাই: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম (EES) সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি জোরালো হয়েছে। যুক্তরাজ্যে গ্রীষ্মকালীন ছুটির সবচেয়ে ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুম শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে সরাসরি ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ব্যবস্থা স্থগিতের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার থেকে সোমবারের মধ্যে প্রায় ২২ লাখ ব্রিটিশ নাগরিক বিদেশে ভ্রমণে বের হচ্ছেন। তাদের অধিকাংশের গন্তব্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। সব স্কুলে গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হওয়ায় বিমানবন্দর, ফেরি বন্দর ও ইউরোটানেল টার্মিনালে যাত্রীচাপ বেড়েছে।

ইইউর নতুন EES ব্যবস্থার আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকদের প্রবেশের সময় ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ দিতে হয়। গত বছর চালু হওয়া এই ব্যবস্থা চলতি বছরের এপ্রিল থেকে পূর্ণমাত্রায় কার্যকর হলেও দীর্ঘ সারি ও প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে সীমান্ত কর্মকর্তাদের কিছু ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে নতুন ব্যবস্থার কারণে ইতোমধ্যেই অনেক যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করতে হয়েছে। কেউ কেউ আবার নির্ধারিত ফ্লাইটও মিস করেছেন।

লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র ক্যালাম মিলার বলেন, যাত্রী ও পণ্য পরিবহনকারীদের এমন একটি সীমান্ত ব্যবস্থার খেসারত দিতে হচ্ছে, যার ওপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী যেন ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা করে অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত EES স্থগিতের ব্যবস্থা করেন।

এদিকে যুক্তরাজ্যের ভ্রমণ সংস্থা অ্যাবটা (ABTA) জানিয়েছে, এ সপ্তাহান্তে ব্রিটিশ পর্যটকদের সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য স্পেন। এছাড়া গ্রিস, পর্তুগাল, ইতালি ও তুরস্কেও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সংস্থাটি যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই বিমানবন্দর বা বন্দর এলাকায় পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছে।

অন্যদিকে গ্রিস জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য থেকে আসা পর্যটকদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বায়োমেট্রিক পরীক্ষা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে না। একই সময়ে ফ্রান্সে ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের সমস্যার কারণে স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত বুথগুলো পুরোপুরি কার্যকর নয়।

যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, EES ইইউর নিজস্ব নীতি হলেও ব্রিটিশ নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে ইউরোপীয় কমিশন ও ফ্রান্সের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ডোভার বন্দরে অতিরিক্ত অবকাঠামো ও যানবাহন ব্যবস্থাপনায়ও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ডোভার বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার ও শনিবার এ গ্রীষ্মের সবচেয়ে ব্যস্ত দিন হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত গাড়ির সারিতে অপেক্ষার সময় ১০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

তবে বিমান সংস্থা ইজি জেট সতর্ক করে বলেছে, ইউরোপ থেকে যুক্তরাজ্যে ফেরার সময় যাত্রীদের সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তাই সংস্থাটি অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত EES বাস্তবায়নে নমনীয়তা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।