বিশেষ প্রতিবেদন।। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : বাংলাদেশের সামনে ঐতিহাসিক পরীক্ষা

বিশেষ প্রতিবেদন।।   তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : বাংলাদেশের সামনে ঐতিহাসিক পরীক্ষা


ভয়েস অব পিপল প্রতিবেদন, ২৪ ডিসেম্বর:  বাংলাদেশ আজ ইতিহাসের এক সংবেদনশীল বাঁকে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ দেড় যুগের নির্বাসন শেষে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনার সংবাদ নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য এক গভীর পরীক্ষার সূচনা। এই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের সামনে আবারও প্রশ্ন উঠে দাঁড়িয়েছে—আমরা কি সংঘাতের পুরোনো বৃত্তে ঘুরপাক খাব, নাকি দায়িত্বশীল গণতন্ত্রের পথে হাঁটব?
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতি ছিল দমন-পীড়ন, প্রতিহিংসা ও বিভাজনের প্রতিচ্ছবি। বিরোধী কণ্ঠকে স্তব্ধ করা, ভিন্নমতকে শত্রু হিসেবে দেখা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার—এই চর্চা জাতিকে ক্লান্ত ও বিভ্রান্ত করেছে। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের দেশে ফেরা মানুষের মনে নতুন প্রত্যাশা যেমন জাগিয়েছে, তেমনি উদ্বেগও তৈরি করেছে। কারণ প্রত্যাশা পূরণ না হলে হতাশা আরও গভীর হয়।


নির্বাসিত অবস্থায় থেকেও তারেক রহমান যে রাজনৈতিক সংযম, বক্তব্যের ভারসাম্য এবং ঐক্যের আহ্বান ধরে রেখেছেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। প্রতিশোধ নয়, বরং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কথা বলার প্রবণতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে তুলনামূলকভাবে নতুন। কিন্তু বক্তব্য আর বাস্তবতার মাঝখানে যে বিস্তর দূরত্ব, সেই ব্যবধান কমানোই হবে তার প্রত্যাবর্তনের আসল পরীক্ষা।
আজ দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে। বিনিয়োগে অনাস্থা, কর্মসংস্থানের সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। একইসঙ্গে রাজনৈতিক মেরুকরণ সামাজিক সম্পর্ককেও ভেঙে দিচ্ছে। এই বাস্তবতায় নেতৃত্বের কাছে মানুষের চাওয়া খুব সরল—স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং ন্যায্যতার নিশ্চয়তা। বড় বড় স্লোগান নয়, তারা দেখতে চায় কার্যকর শাসন।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো উত্তেজনা ও প্রতিহিংসার রাজনীতিতে ফিরে যাওয়া। নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা, মব ভায়োলেন্স কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার মানসিকতা আবার মাথাচাড়া দিলে পুরো সম্ভাবনাই ভেস্তে যাবে। তাই নেতৃত্বের প্রতি জাতির আবেদন—সংযমকে দুর্বলতা নয়, শক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম আজ রাজনীতির দিকে তাকিয়ে আছে সংশয় আর প্রত্যাশার মিশ্র দৃষ্টিতে। তারা অতীতের হিসাব নয়, ভবিষ্যতের রূপরেখা জানতে চায়। তারা চায় এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে মেধা ও যোগ্যতার মূল্য থাকবে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিরাপদ থাকবে, এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। এই তরুণদের আস্থা অর্জন করতে পারাই হবে নতুন নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
তারেক রহমানের সরাসরি উপস্থিতি নিঃসন্দেহে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। কিন্তু সেই উদ্দীপনা যদি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণে রূপ না নেয়, তবে তা আশীর্বাদ নয়, অভিশাপ হয়ে উঠতে পারে। রাজপথে শক্তি প্রদর্শনের চেয়ে সংসদ, সংলাপ ও নীতিনির্ধারণে দক্ষতা দেখানোই এখন সময়ের দাবি।
ডেইলি ভয়েস অব পিপল মনে করে, এই প্রত্যাবর্তন আসলে একজন ব্যক্তির নয়—এটি পুরো জাতির পরীক্ষা। গণতন্ত্রকে কি আমরা আবার বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারব? ভিন্নমতকে কি সহাবস্থানের জায়গা দিতে পারব? নাকি ক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও রাজনীতির চরিত্র একই থেকে যাবে?
শেষ পর্যন্ত ইতিহাস কঠোর বিচারক। সে আবেগ দেখে না, দেখে সিদ্ধান্ত ও তার ফল। তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন যদি শান্তি, ঐক্য ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের পথে দেশকে এগিয়ে নিতে পারে, তবে এটি ইতিহাসে একটি ইতিবাচক অধ্যায় হিসেবেই লেখা থাকবে। আর যদি ব্যর্থ হয়, তবে দায় শুধু একজন নেতার নয়—পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপরই এসে পড়বে।
এই মুহূর্তে তাই সবচেয়ে বড় প্রয়োজন দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এবং জাতীয় সংযম। বাংলাদেশ আর ভুলের বিলাসিতা বহন করতে পারে না।